বুদবুদ: টাকার বিনিময়ে রাজ্য পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে ভুয়ো নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল বুদবুদের দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের কলমডাঙ্গা গ্রামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থেকে পুলিশের একটি দল হানা দিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করে। রবিবার সকালে তাদের বর্ধমান নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি ছোট গাড়ি ও পঞ্চায়েতের একটি জলের ট্যাংক আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয় কয়েকশো বেকার যুবকের কাছে। শনিবার সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিলি করা হচ্ছিল কলমডাঙ্গা গ্রামের জঙ্গলে। খবর পেয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিশ। চাকরিপ্রার্থীরা পুলিশকে দেখে পালিয়ে যায়।নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্তরাও জঙ্গলে ভিতরে ঢুকে গা ঢাকা দিলেও ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করে। যারা এই প্রশ্নপত্র বিলি করার কাজ করছিল।
ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। বিজেপি নেতা কৃষ্ণ দয়াল কর্মকারের দাবি, অবিলম্বে পুলিশের পরীক্ষা বাতিল করা হোক। গোটা রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। দেবশালার ঘটনা তার একটি নমুনা। শাসকদলের মদতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে বিজেপির দাবি।
যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না করলেও পঞ্চায়েতের জলের ট্যাংক আটকের বিষয়ে দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সোমনাথ চৌধুরী জানান, ওই গ্রামে একজন আত্মঘাতী হন। গ্রামের বাসিন্দা আশানুর নামের ব্যক্তি তার বাড়িতে জলের ট্যাংক টি ভাড়া নিয়ে যায়। যেহেতু দুদিন ছুটি তাই সেটা ফেরত হয় নি। তবে কলমডাঙ্গা গ্রামের ঘটনার বিষয়ে তিনিও কিছু মন্তব্য করতে চান নি।
শনিবার পূর্ব বর্ধমান থানার সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে খবর আসে, রবিবারের পরীক্ষার আগে একটা র্যাকেট কাজ করছে। এর পরেই চলে অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিলি করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ পেয়ে শনিবার বিকালে একযোগে বর্ধমান স্টেশন ও শহরে অভিযান চালায় বর্ধমান জিআরপি, বর্ধমান সাইবার ক্রাইম থানা ও বর্ধমান থানার পুলিশ। অভিযান চালিয়ে তিন জনকে আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাতে ফের বুদবুদ থানার কলমডাঙায় অভিযান চালায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ। সাত জনকে ধরা হয় সেখান থেকে।
এই ১০ জনের মোবাইল চেক করে পাওয়া নথি ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ যখন বুদবুদ থানার দেবশালা পঞ্চায়েতের কলমডাঙা গ্রামে হানা দেয়, সেই সময়ে প্রচুর পরীক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিল। পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করলে সাত জনকে ধরে ফেলে পুলিশ। তবে রবিবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই হয় বলে খবর। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি শ্যাম সিং ও পুলিশ সুপার সায়ক দাস বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
রবিবার, ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতরা নদিয়া, মালদা ও পুরুলিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই চক্রে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা এবং যে প্রশ্ন পত্র বিলি করা হচ্ছিল সেই প্রশ্ন পত্রের সাথে রবিবারের পরীক্ষার কোনও মিল আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এছাড়াও এই প্রশ্ন পত্র তারা কোথা থেকে পেয়েছে সমস্ত বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।










