আসানসোল : অবৈধ বালি কারবারি বা মাফিয়াদের থেকে টাকা নিচ্ছেন আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার। সোমবার আসানসোলের এভলিং লজে বিধায়ক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এমনই মারাত্মক অভিযোগ করলেন। এই নিয়ে এদিনই বিজেপি বিধায়ক কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডিকে একটি চিঠি দিয়েছেন বলে জানান। এছাড়াও বিজেপি বিধায়ক শাসক দলের ওই কাউন্সিলারের নামে একাধিক অভিযোগ করেন।
যদিও, বিজেপি বিধায়কের এই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন শাসক দলের ওই কাউন্সিলার তরুণ চক্রবর্তী। এই বালি কারবারি নিয়ে তিনি বিজেপি বিধায়ককে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিজেপি বিধায়ককে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “উনি একজন বিধায়ক হয়ে আমার মতো একজন কাউন্সিলারের কাছে হেরে গেছেন। তাই তিনি এইসব ভুলভাল বকছেন। উনি এলাকার বিধায়ক হয়ে এই ওয়ার্ডে গত ৫ বছরে একদিনও আসেননি। ওয়ার্ডের মানুষেরা তার জবাব তাকে দিন কয়েক আগে দিয়েছেন। তাতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন”।

কাউন্সিলার বলেন, “আমি চার বছরের এই ওয়ার্ডের জন্য কী করেছি, তা মানুষেরা জানেন। আমি তাঁকে সরাসরি বলছি, ক্ষমতা থাকলে, উনি যা বলেছেন এবং অভিযোগ করছেন, তার প্রমাণ সবার সামনে দিন। তা না হলে,
আমি আইনগত দিক থেকে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব”।
এদিন বিজেপি বিধায়ক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডামরা এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলন চলছে। এদিন এই বিষয়ে আমি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে একটি চিঠি লিখেছি। যেখানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে এই পুরো অবৈধ বালি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে”।
তিনি আরো বলেন, “৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী সেখানকার বালি মাফিয়াদের কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা নিচ্ছেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে লেখা আমার চিঠিতে আমি পাপ্পু, বিবেক, ঝন্টু এবং অবিনাশের মতো কয়েকজন বালি কারবারিদের নাম লিখেছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় বালি উত্তোলনের ব্যবসা ব্যাপকভাবে চলছে। যে কারণে দামোদরের মতো অনেক নদী তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। সেখানে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এই সব পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটছে। এইসব কিছু বন্ধ করার কেউ নেই। বিধায়ক বলেন, আমি এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব”।
আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক এদিন স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগও করেছেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, সম্প্রতি হওয়া পরীক্ষায় যদি একজনও টেন্ডেড প্রার্থী থাকে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, নীতিশ রঞ্জন বর্মণ নামে একজন ব্যক্তি, যিনি পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়ার অযোগ্য ছিলেন। তবুও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আসানসোলের ডামরা এলাকার অরূপ হাজরা নামে একজন প্রাথমিক শিক্ষক বিএলও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তাই বিজেপির অভিযোগে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষকদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যার প্রতিবাদে এদিন নতুন প্রার্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “বিজেপি ইতিমধ্যেই বলেছে যে ২০১৬ সালের শিক্ষকদের জন্য আলাদা পরীক্ষা এবং নতুন প্রার্থীদের জন্য আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না যে বাংলার ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হোক বা নিজের পায়ে দাঁড়াক ৷ মুখ্যমন্ত্রী তাদেরকে ১০০০ বা ১৫০০ ভাতা দিয়ে রাখতে চান”।










