Home / খবর / জেলায় জেলায় / দেবী চৌধুরাণীর স্মৃতিবিজড়িত মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি

দেবী চৌধুরাণীর স্মৃতিবিজড়িত মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: তিস্তা নদী থেকে বজরা নিয়ে রুকরুকায় এসে এই স্থানেই সাময়িক ঘাঁটি গাড়তেন ‘সাহিত্য সম্রাটের’ ঐতিহাসিক চরিত্র দেবী চৌধুরাণী। রুকরুকা আর করলা নদীর পাশে এই শ্বাপদসংকুল এই জঙ্গলাকীর্ণ স্থানেই ভবানী পাঠককে দিয়ে শ্মশান কালী মায়ের মন্দির স্থাপন করেছিলেন। পুজো করার পাশাপাশি লুঠ করা সামগ্রী অকাতরে দান করতেন দুঃস্থদের। জলপাইগুড়ি শহরের গোশালা মোড়ে অবস্থিত দেবী চৌধুরাণী মন্দিরে মিশে রয়েছে ইতিহাস ও লোককথা। আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীন সেই মন্দিরে আসন্ন কালী পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। দেবী চোধুরানীর প্রিয় শোল,টাকি ও বোয়াল মাছে ভোগ নিবেদন করা হয় মাকে।

মনসা থান।

আজ যেখানে ফোর-লেন, অহরহ চলছে ছোট, বড় গাড়ি, আশেপাশে বসতি, দোকান। একসময় এই জায়গাই ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। ফোর লেনের কারণে মন্দিরের সেই নিস্তব্ধতা এখন আর নেই। মন্দির চত্বরে গেলে আজও দেখা মেলে পূর্বেকার পূর্বেকার পূজারির ভগ্নপ্রায় বাসস্থান। যা বহন করে চলেছে ইতিহাসকে। মন্দির চত্বরে ঢুকতেই চোখে পড়বে কয়েক শো বছরের পুরানো বটগাছ ও মা মনসার থান। কথিত আছে, গোশালা মোড়ের এই শ্মশানকালী মন্দিরে পুজো দিয়ে মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রুকরুকা নদীতে বজরা ভাসিয়ে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহাসিক চরিত্র দেবী চৌধুরানি তিস্তা নদী দিয়ে অভিযানে যেতেন।

দেবী চৌধুরাণী শ্মশানকালী মন্দির। ছবি: পিনাকী শীল।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সুভাষ চৌধুরী বলেন,”দেবী চৌধুরাণীর অন্যতম ডেরা ছিল এটি। মন্দিরে পুজো দিয়ে লুট করা ধনসম্পত্তি দুঃস্থদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন তিনি। ভবানী পাঠক ছিলেন এই মন্দিরের প্রথম পূজারি।”

এবারে ট্রাস্ট গড়ে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি মন্দির পরিদর্শন করে গিয়েছেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকারও।

দেবাশিস সরকার, যুগ্ম সম্পাদক, মন্দির কমিটি।

মন্দির কমিটির সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলেন, ‘ভীষণদর্শনা মাতৃমূর্তিতে মঙ্গোলয়েড ছাপ রয়েছে। ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রথম এই চত্বরে থাকা চারশো বছরের পুরানো এক বটগাছের নীচে প্রথম এই পুজো করেন বলে কথিত আছে। বীরাচার তন্ত্র মতে পুজো হয়। স্থানীয় সংস্কারের কারণে বলি প্রথা আজও রয়ে গিয়েছে। তবে সচেতনতা বাড়ছে। আদিবাসীরাও তাদের পছন্দের সামগ্রী দিয়ে পুজো দেন।”

জিলিপি-সহ নানা সামগ্রী নিয়ে পুজো দিতে আসেন আদিবাসীরাও। কথিত রয়েছে দেবী চৌধুরানীর নাকি শোল মাছ খুব পছন্দের ছিল। আজও শোল মাছ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। থাকে বোয়াল, টাকি-সহ অন্য নানা পদও। মধ্যরাতের এই পুজো দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগত ভক্তরাও সামিল হন পুজোয়।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *