Home / খবর / জেলায় জেলায় / সুন্দরবনে নদীভাঙন, বন্যা, জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনে নদীভাঙন, বন্যা, জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষার চ্যালেঞ্জ

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,সুন্দরবন : সুন্দরবন শুধু একটি অরণ্যের নাম নয়। সুন্দরবন মানে নদী, জোয়ার-ভাটা, কাদামাটি, ম্যানগ্রোভ, বাঘ, হরিণ, কুমির, পাখি, মাছ, কাঁকড়া এবং সেই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা।প্রকৃতি ও মানুষের এমন নিবিড় সহাবস্থান পৃথিবীর আর কোথাও খুব সহজে দেখা যায় না। অথচ সেই সুন্দরবন আজ একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অভিঘাতে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে উঠছে।ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, নদী ভাঙন, বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং লবণাক্ততার বিস্তার—সব মিলিয়ে সুন্দরবনের সামনে তৈরি হয়েছে এক বহুমাত্রিক সংকট। এই সংকট শুধু বনভূমির নয়, শুধু বন্যপ্রাণীর নয়, শুধু নদী বা কৃষিজমিরও নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন-সংলগ্ন মানুষের অস্তিত্ব, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ।প্রকৃতির নিয়মে সুন্দরবনে নদীর পাড় ভাঙবে, আবার কোথাও নতুন চরও জাগবে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বদলাবে নদীর গতিপথ। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের সম্মিলিত প্রভাবে এই স্বাভাবিক ভাঙাগড়ার গতি ও অভিঘাত যখন বাড়তে থাকে, তখনই তা পরিণত হয় অস্তিত্বের সংকটে। সুন্দরবনের নিত্যদিনের আতঙ্ক
সুন্দরবনের মানুষের কাছে নদী ভাঙন কোনও নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু গত কয়েক দশকে বহু এলাকায় নদীভাঙনের অভিঘাত আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জোয়ার-ভাটার প্রবল স্রোত, নদীর গতিপথের পরিবর্তন,ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সম্মিলিত আঘাতে কোথাও নদীর পাড় ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার বিস্তীর্ণ জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।একটি বাড়ি নদীতে চলে যাওয়া মানে শুধু একটি ইট-কাঠের কাঠামো হারিয়ে যাওয়া নয়। তার সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্মৃতি, কৃষিজমি, পুকুর, গাছপালা এবং বহু বছরের পরিচিত জীবনযাত্রা। নদী ভাঙনের কারণে বহু পরিবারকে বারবার বসতি পরিবর্তন করতে হয়। কারও জমি থাকে না, কারও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে না। এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবেশগত সংকটকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত করে।তাই তো
সুন্দরবনপ্রেমী ও গবেষকদের অভিজ্ঞতাতেও নদীভাঙনকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত
ঘূর্ণিঝড় কিংবা গভীর নিম্নচাপের সময় সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়িগুলিতে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। অনেক সময় বাঁধ উপচে বা বাঁধ ভেঙে নোনা জল ঢুকে পড়ে লোকালয়ে।এর ফলে একদিকে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে কৃষিজমি ও পুকুরে লবণাক্ত জল ঢুকে পড়ে।
একবার কোনও কৃষিজমিতে অতিরিক্ত নোনা জল ঢুকে গেলে সেই জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে। পুকুরের জলও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। ফলে পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়। কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাছ চাষে ধাক্কা লাগে এবং স্থানীয় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে তাই শুধু ভেঙে যাওয়া বাড়ি বা রাস্তা মেরামত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, কৃষি পুনরুদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জীববৈচিত্র্যকে ফিরিয়ে আনার কাজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ম্যানগ্রোভ বন। গরান, গেঁওয়া, সুন্দরীসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ শুধু বনভূমির সৌন্দর্য বাড়ায় না; তারা প্রকৃতির তৈরি এক অসাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ম্যানগ্রোভের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় তারা ঢেউয়ের শক্তি অনেকটা কমিয়ে দেয়। উপকূলবর্তী অঞ্চলকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম।
কিন্তু যখন নদীভাঙন, অতিরিক্ত লবণাক্ততা, ভূমিক্ষয় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে ম্যানগ্রোভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন একটি ভয়াবহ চক্র শুরু হয়। গাছ কমে গেলে নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পাড় দুর্বল হলে ভাঙন বাড়ে। ভাঙন বাড়লে আরও গাছ হারিয়ে যায়।
অর্থাৎ ম্যানগ্রোভ ধ্বংস শুধু বনভূমির ক্ষতি নয়; তা নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিপন্ন জীববৈচিত্র্য
সুন্দরবনের পরিচয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে বাদ দিয়ে কল্পনা করা যায় না। কিন্তু সুন্দরবনের পরিবেশব্যবস্থা শুধুমাত্র বাঘকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি। বাঘের সঙ্গে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, পাখি, মাছ, কাঁকড়া, শামুক এবং অসংখ্য জলজ ও স্থলজ প্রাণী।প্রতিটি প্রাণী এই বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি প্রজাতির সংখ্যা কমে গেলে তার প্রভাব অন্য প্রজাতির উপরও পড়তে পারে। খাদ্যশৃঙ্খলের একটি স্তরে সমস্যা তৈরি হলে তার ঢেউ ধীরে ধীরে গোটা পরিবেশ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বনভূমির বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হলে প্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়। অতিরিক্ত লবণাক্ততা জলজ প্রাণীর আবাসস্থল পরিবর্তন করতে পারে। মাছ ও কাঁকড়ার প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে খাদ্যশৃঙ্খলে এবং একই সঙ্গে মানুষের জীবিকাতেও।তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার অর্থ শুধু বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়। নদী, খাঁড়ি, জলাভূমি, ম্যানগ্রোভ এবং গোটা খাদ্যশৃঙ্খলকে রক্ষা করতে হবে।সুন্দরবনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরনো। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভর করে বহু মানুষের সংসার চলে। সুন্দরবনের বন ও নদী তাঁদের কাছে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।কিন্তু বনভূমি ও নদীর পরিবেশ যত বেশি বিপন্ন হবে, মানুষের জীবিকাও তত বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাছের প্রাপ্যতা কমলে জেলেদের আয় কমে। বনজ সম্পদের উপর চাপ বাড়ে। নদীভাঙনে কৃষিজমি হারালে মানুষ আরও বেশি করে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।এই জায়গাতেই সুন্দরবন সংরক্ষণের সঙ্গে মানুষের জীবিকার প্রশ্নটি সরাসরি যুক্ত।
মানুষকে বাদ দিয়ে সুন্দরবনকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।শুধু বাঁধ নয়, চাই প্রকৃতিনির্ভর সমাধান নদীভাঙন ঠেকাতে বাঁধের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি জায়গায় একই ধরনের বাঁধ নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নাও হতে পারে। নদীর চরিত্র, জোয়ার-ভাটার প্রবাহ, মাটির প্রকৃতি, নদীর গতিপথ এবং স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনা করে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন।এর সঙ্গে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে সম্ভব সেখানে স্থানীয় পরিবেশের উপযোগীম্যানগ্রোভ প্রজাতির পুনরোপণ করতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না; সেই গাছ বেঁচে আছে কি না, তার শিকড় মাটি ধরে রাখতে পারছে কি না, নতুন বনভূমি তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।প্রকৃতির নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার অন্যতম পথ।
দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি জরুরি
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। আর তার জন্য দুর্যোগের পরে তৎপরতার পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
ভাঙন প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, দুর্বল বাঁধগুলির নিয়মিত পরিদর্শন, নদীর গতিপথের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা দরকার।একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে পানীয় জল সংরক্ষণ করতে হবে, কীভাবে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে—এসব বিষয়ে স্থানীয় স্তরে নিয়মিত সচেতনতা প্রয়োজন।
সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় মানুষই হতে পারেন সবচেয়ে বড় শক্তি
সুন্দরবনের মানুষ প্রকৃতির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকেন। তাঁরা নদীর আচরণ, জোয়ারের পরিবর্তন, ভাঙনের প্রবণতা এবং বনভূমির পরিবর্তন অনেক সময় প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের আগেই বুঝতে পারেন।তাই সুন্দরবন রক্ষার পরিকল্পনায় তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।বিকল্প কর্মসংস্থান, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন, টেকসই মৎস্যচাষ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বনজ সম্পদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব কোনও একক দফতরের নয়। প্রশাসন, বন দফতর, পরিবেশবিদ, গবেষক, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।নদী ভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করতে হবে। কোথায় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার সম্ভব, কোথায় বাঁধ প্রয়োজন, কোথায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে জায়গা দেওয়া দরকার—এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই সঙ্গে জলাভূমি, খাল ও ছোট নদীগুলিকে রক্ষা করতে হবে। কারণ সুন্দরবনের পরিবেশব্যবস্থায় প্রতিটি জলপথের আলাদা ভূমিকা রয়েছে।শুধু দুর্যোগের পরে ক্ষতিপূরণ বা ত্রাণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগের সময়ে উদ্ধার এবং দুর্যোগের পরে পরিবেশ ও জীবিকা পুনরুদ্ধার—এই তিনটি স্তরকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাঘকে বাঁচাতে হলে গোটা সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে
সুন্দরবনের বাঘ আমাদের গর্ব। কিন্তু বাঘকে আলাদা করে বাঁচানো যায় না। বাঘের জন্য প্রয়োজন বন, বনের জন্য প্রয়োজন ম্যানগ্রোভ, ম্যানগ্রোভের জন্য প্রয়োজন নদী ও উপযুক্ত মাটির পরিবেশ। আবার বাঘের খাদ্য হিসেবে হরিণ ও অন্যান্য প্রাণীর নিরাপদ অস্তিত্বও জরুরি।একটি নদীর পাড় ভেঙে গেলে শুধু একটি জমি হারায় না। তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে একটি ম্যানগ্রোভের আবাসস্থল, কোনও প্রাণীর চলাচলের পথ, কোনও পাখির বাসস্থান এবং একটি পরিবারের বহু বছরের বসতি।
এই আন্তঃসম্পর্ককে না বুঝলে সুন্দরবন সংরক্ষণ কখনও পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—আমরা কি সুন্দরবনকে শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব, নাকি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ করব?
সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে নদীকে বাঁচাতে হবে। নদীকে বাঁচাতে হলে ম্যানগ্রোভকে রক্ষা করতে হবে। ম্যানগ্রোভকে রক্ষা করতে হলে স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।প্রকৃতি এবং মানুষের এই পারস্পরিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে সুন্দরবন রক্ষা সম্ভব নয়।
আজ প্রয়োজন এমন একটি সুন্দরবন নীতি, যেখানে উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে; নদীকে শুধু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে তার স্বাভাবিক চরিত্রকে বোঝা হবে; ম্যানগ্রোভকে শুধু বন হিসেবে নয়, প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে দেখা হবে; আর সুন্দরবনের মানুষকে শুধু ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষ হিসেবে নয়, সুন্দরবন রক্ষার অন্যতম অংশীদার হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হবে।সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়। এটি বাংলার প্রাকৃতিক ঢাল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র, অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয় এবং লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকার ভিত্তি।তাই সুন্দরবন রক্ষা মানে শুধু একটি বন রক্ষা নয়—নদীকে রক্ষা করা, জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করা, মানুষের জীবনকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বকে নিরাপদ করা।আজ সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে নয়, প্রকৃতিকে বুঝে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই আমরা কি তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবো।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *