Home / খবর / জেলায় জেলায় / আদালতের নির্দেশ উড়িয়ে, চালু কারখানা দখলের চেষ্টা, মাইথন স্টিলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আদালতের নির্দেশ উড়িয়ে, চালু কারখানা দখলের চেষ্টা, মাইথন স্টিলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

চুক্তি লঙ্ঘন, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং বৈধ আইনি নথি, কোনও কিছুরই তোয়াক্কা না করে এক চালু কারখানা গায়ের জোরে জবরদখলের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল প্রভাবশালী ‘মাইথন স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। নিরুপায় ও দিশাহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দরবারে সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ভুক্তভোগী কারখানা মালিক সত্যনারায়ণ সোনকার।
প্রাপ্ত তথ্যে থেকে জানা গেছে, ‘মহাদেব এন্টারপ্রাইজ’ নামের কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ী সত্যনারায়ণ সোনকার। কারখানার সীমানা প্রাচীর, চিমনি, বিদ্যুৎ সংযোগের বিল থেকে শুরু করে জিএসটি নথি, সবই রেজিস্টার্ড রয়েছে তাঁর নামে। সত্য নারায়ণ বাবু জানান, ২০২৪ সালে জমির মালিক দিলীপ চৌধুরী ও তাঁর পুত্র বিশ্বজিৎ চৌধুরী (বুড়া)-র কাছ থেকে জমিটি লিজে নেন। লিখিত চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, ভবিষ্যতে এই জমি বিক্রি করা হলে, তা কেনার ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন তিনি।
অভিযোগ, চুক্তিপত্রের শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মাত্র এক মাস আগে সত্যনারায়ণবাবুকে বিন্দুমাত্র না জানিয়ে গোপনে পুরো জমিটি ‘মাইথন স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’-এর কাছে বিক্রি করে দেন জমি মালিক। প্রতারিত হয়ে সত্যনারায়ণ সোনকার দ্রুত আসানসোল আদালতের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত উক্ত বিতর্কিত জমিতে ‘ইনজাংশন অর্ডার’ বা স্থগিতা‌দেশ জারি করে।
অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা মানতে নারাজ মাইথন স্টিল কর্তৃপক্ষ। সত্যনারায়ণবাবুর দাবি, গত এক মাস ধরে নানাভাবে কারখানাটি দখলের চক্রান্ত চলছিল। পরিস্থিতি চরম রূপ নেয় আজ দুপুরে। কারখানার শ্রমিক ও কর্মীরা গেট বন্ধ করে খাবার খেতে গেলে, সেই সুযোগে মাইথন স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের দুষ্কৃতীরা এসে গেটের তালা ভেঙে ফেলে। ভেতরে জোর করে নিজেদের কারখানার রাবিস ফেলে কারখানাটি পুরোপুরি জবরদখল করার চেষ্টা চালায় তারা।সত্য নারায়ণ সোনকার জানান আমার চালু কারখানা এভাবে গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। বারবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আদালত ইনজাংশন দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়। আমি এখন কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
একজন বৈধ ব্যবসায়ীর ওপর প্রভাবশালী কারখানা কর্তৃপক্ষের এই ‘দাদাগিরি’ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দখলের চেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভ জমছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। এখন দেখার, আদালত ও পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *