উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলপি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙাফলা গ্রামের মেয়ে নাসিফা আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে ৪০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতে দেশে ফেরার পর তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে গোটা এলাকা।
দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নাসিফার। বাবা শফিউল্লা জমাদার প্রান্তিক কৃষক এবং মা সিদ্দিকা খাতুন একজন আশা কর্মী। তিন বোনের মধ্যে বড় নাসিফা ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে গ্রামের রাস্তায় দৌড়ের অনুশীলন করতেন।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কাকদ্বীপের বামানগর হাইস্কুলে ভর্তি হলেও খেলাধুলার সুযোগের কথা ভেবে পরে করঞ্জলি গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই অ্যাথলেটিক্সে তাঁর পথচলা শুরু। পরে গাজীরমহল হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। কলকাতার একটি অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করেন।
নাসিফার সাফল্যের পেছনে তাঁর মা সিদ্দিকা খাতুনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনিও একসময় হাইজাম্প, লংজাম্প ও দৌড়ে একাধিক পদক জিতেছিলেন। তবে নানা কারণে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। সেই স্বপ্নই মেয়ের হাত ধরে বাস্তব হয়েছে।
স্বর্ণপদক জিতে নাসিফা গ্রামে ফিরতেই তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। ফুলের তোড়া, স্মারক ও সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে অভিনন্দন জানান। আবেগঘন মুহূর্তে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন নাসিফা। তাঁর এই সাফল্যে শুধু রাঙাফলা গ্রাম নয়, গোটা কুলপি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষ গর্বিত।









