সান্ধ্য সত্যযুগ পত্রিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক, সমবায় ও শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী প্রীতি গুহ মজুমদারের জীবনাবসান। আজ সকালে সল্টলেকের মণিপাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯।
সাম্প্রতিক কালে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর জন্ম ১৯৫৭ সালে দমদমে। ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তৎকালীন প্রভাতী সত্যযুগ সংবাদপত্রের সঙ্গে সাংবাদিক হিসাবে যুক্ত হন। আটের দশকের মাঝামাঝি থেকে তিনি সত্যযুগ-সহ কলকাতার অন্যান্য সংবাদপত্রের শ্রমিক আন্দোলনে প্রথমসারির যোদ্ধা ছিলেন। পরে তাঁর সহ-নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালের ২ জুলাই সত্যযুগ এমপ্লায়িজ কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটি লিমিটেড গঠিত হয়। সেই সঙ্গে তিনি সংবাদপত্র কর্মচারী সমিতি ও বৃহত্তর ক্ষেত্রে সমবায় আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। ২০০১ সালে সান্ধ্য সত্যযুগ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য সহ-নেতৃত্বে সত্যযুগ প্রেস দেশের অন্যতম বৃহত্তর সমবায় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে একটি নির্ভীক সংবাদপত্র প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তিনি যোগ্য সহযোদ্ধার ভূমিকা পালন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ডিরেক্টর, প্রীতি গুহ মজুমদার সমস্ত ধরনের বামপন্থী শ্রমিক-কর্মচারী, মহিলা, ছাত্র-যুব আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে চলতেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু সত্যযুগ নয়, অপূরণীয় ক্ষতি হল সমবায় ও বামপন্থী আন্দোলনের। তাঁর জীবনাবসানে সত্যযুগ প্রেসের কর্মী ও সান্ধ্য সত্যযুগ পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি রেখে গেলেন স্বামী তথা সহযোদ্ধা, সান্ধ্য সত্যযুগ পত্রিকার সম্পাদক ও সত্যযুগ শিল্প সমবায়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী চিত্ত দেবনাথ, কন্যা ও জামাতাকে।










