আসানসোল: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার অবশেষে আসানসোলের জিটি রোডের হটন রোড মোড় থেকে ইসমাইল মোড় পর্যন্ত রাস্তার ধারে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও অস্থায়ী নির্মাণের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করল আসানসোল পুরনিগম। সকাল সাড়ে এগারোটার পর রাস্তায় নামে বুলডোজার।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পুরনিগমের ইঞ্জিনিয়ার, আধিকারিক এবং আইনি উপদেষ্টারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার পুরনিগমের পক্ষ থেকে মাইকিং করে রাস্তার দখল সরানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত মাসের ১৬ তারিখ উচ্ছেদ অভিযানের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দোকানদারদের আবেদনের ভিত্তিতে সেই অভিযান ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ফের মাইকিং করে ১৫ জুন উচ্ছেদ অভিযানের দিন চূড়ান্ত করা হয়। ফলে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছিল ব্যাপক জল্পনা।
সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই অধিকাংশ দোকানদার নিজেদের দোকানপাট সরিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত করেন। তবে যাঁরা প্রশাসনের নির্দেশ মানেননি, তাঁদের অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ কাঠামো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে হটন রোড থেকে ইসমাইল মোড় পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার ওপর দখলদারির কারণে যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপে রাস্তা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে এবং যান চলাচল সহজ হবে।
পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। বহুদিনের জল্পনার পর অবশেষে হটন রোডে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও আপাতত উত্তর মিলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।
এদিকে, আসানসোলের বাসিন্দা শিক্ষক ও সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্র উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের সাবলীলভাবে হাঁটার অধিকার রক্ষার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আজকের ভয়াবহ বেকারত্বের সময়ে এই মানুষগুলোর জীবিকা হারানোকে যেন আমরা উৎসব হিসেবে না দেখি। অন্তত মানবিকতার জায়গা থেকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।










