Home / প্রবন্ধ / জন্মগত অধিকারের আশ্বাসে উচ্ছ্বাস, অতীত কি আধুনিক হয়ে ফিরল

জন্মগত অধিকারের আশ্বাসে উচ্ছ্বাস, অতীত কি আধুনিক হয়ে ফিরল

বৈদিক যুগে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের যে স্বীকৃতি ছিল, সময়ের স্রোতে তা হারিয়ে গিয়েছে বহুবার। বর্তমানের নিরাপত্তা-প্রতিশ্রুতির আবহে তাই ফিরে দেখা জরুরি—লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

অবাক পৃথিবী…

মুখ লুকোনোর লজ্জায় লজ্জা পাচ্ছেন না। যা জন্মগত অধিকার নৈতিক দাবি এত যুগ পাননি কেন, এ প্রশ্ন সকলের কন্ঠ-স্বরে বাজল না ভাবতে কুঁকড়ে যাচ্ছে মানুষ শরীর। মঞ্চে পরিবেশিত বিষয় নারী-নিরাপত্তা, এবার তাই পাবার নিঃশর্ত জবরদস্ত আশ্বাস মিলেছে। পান থেকে চুন খসলেই জিরো টলারেন্স। বুক চিতিয়ে নারী রাত-বিরেতে নির্ভয়ে চলা-ফেরা করতে পারবেন। অবাক কাণ্ড, যা হক জন্মেই রেজিস্টার্ড, তা মেলার হদিশ মিলতেই নারী আহ্লাদে আটখানা। না পাওয়ার যন্ত্রণা গা-সওয়া হয়ে বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, নারীর নিরাপত্তা চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ (সেখানেও যথেষ্ট সন্দেহ), সুতরাং এর দাগিয়ে দেওয়ার গণ্ডির বাইরে নারীর বাইরে বেরোনোর তাগিদের দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে। অন্তত এর হাত থেকে রেহাই পেলেন নারীকুল।

অবাক করলে তুমি…

তাহলে কি সেই বৈদিক যুগের নতুন করে পদ-ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। যে যুগে সত্য এই নারী ও পুরুষ মূলত: এক ও অভিন্ন। একই আত্মা নারী-পুরুষে বিদ্যমান, যা পুরুষের প্রাপ্য, তা নারীরও প্রাপ্য ছিল। পুরুষদের মধ্যে যেমন বিদ্যচর্চা ছিল, নারীদের মধ্যেও তেমন বিদ্যচর্চা ছিল। তাই বৈদিক যুগে যেমন পুরুষ-ঋষির নাম পাই, তেমন নারী-ঋষির নামও পাই। নারী বাক্ ঋষি দেবী-সূক্ত রচনা করেছিলেন, যা আমরা এখনও আবৃত্তি করি। ব্রহ্মজ্ঞানে অধিষ্ঠিতা গার্গী ও মৈত্রেয়ীর নাম সুবিদিত। এ থেকে বোঝা যায়, বৈদিক যুগে শুধু যে তত্ত্বের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ সমান বলে স্বীকৃত, তা নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও তাঁরা সমান আসন পেয়েছেন। নারীর অধিকার, নারীর স্বাধীনতা, এসব প্রশ্ন তখন ছিল না। কিন্তু ঠিক কবে থেকে এবং কি করে যে নারীর স্থান ধীরে ধীরে নীচের দিকে নামতে লাগলো তা বলা শক্ত। শ্রুতির পর স্মৃতির যুগে দেখি মনু বলেছেনঃ ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’ অর্থাৎ নারীদের সম্মান দিলে দেবতারা খুশি হন। তিনি আরও বলছেনঃ ‘কন্যাপ্যেবং পালনীয় শিক্ষণীয়া তীয়ত্নতঃ’ অর্থাৎ মেয়েদেরও যত্ন সহকারে পালন করা উচিত এবং শিক্ষা দেওয়া উচিত। মনু যে এই উপদেশ দিয়েছেন বা দেবার প্রয়োজন বোধ করেছেন, ঐ থেকেই বোঝা যায় যে হিন্দু সমাজে মেয়েদের অনাদর শুরু হয়ে গিয়েছে (যুব-নায়ক বিবেকানন্দ, স্বামী লোকেশ্বরানন্দ)।

অতি উত্তম

ইতিহাস কখনোই বিদায় বলে না, ইতিহাস বলে “পরে দেখা হবে” (এদুয়ার্দু গ্যালিয়ানো, উরুগুয়ের প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক)-এর ঠিক তাই। অতীত – আধুনিক হয়ে ফিরল।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *