বিধায়কের সঙ্গে আলোচনায় শিল্পীরা
অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ৭৯ বছরের বঞ্চনার অবসানের দাবি। উত্তরবঙ্গে সরকারি চারুকলা কলেজ ও আঞ্চলিক পর্ষদ অফিসের দাবিতে সরব উত্তরবঙ্গ শিল্পী মঞ্চ। স্মারকলিপি দিলেন জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সম্পাদক বাপি গোস্বামীকে। তাঁদের আশ্বাসে ভরসা পেলেন নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা।
স্বাধীনতার প্রায় আট দশক বাদেও বিভাগীয় শহর জলপাইগুড়িতে চিত্রশিল্পীদের জন্য চারুকলা কলেজ তৈরি করা হয়নি। উত্তরবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি চারুকলা মহাবিদ্যালয় স্থাপনও করা হয়নি। শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলির অবস্থা ভালো নয় বলেও অভিযোগ শিল্পীদের। উত্তরবঙ্গের মেধাবী ও উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রীরা অর্থের অভাবে BFA/MFA পড়তে কলকাতা বা রাজ্যের বাইরে যেতে পারে না। ফলে প্রতিভা ঝরে যাচ্ছে। একইসঙ্গে রাজবংশী, টোটো, মাশাল শিল্প, ধুনো নাচের মতো লুপ্তপ্রায় শিল্পগুলোও গবেষণার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই এবারে এ বিষয়ে সরব হয়েছেন শিল্পী মঞ্চের সদস্যরা। পর্ষদের আঞ্চলিক অফিস এদিকে হলে গ্র্যান্ট, অনুমোদন, প্রদশনী সংক্রান্ত কাজে কলকাতা যাওয়াও ঝক্কি কমবে। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ শিল্পী মঞ্চের তরফে বর্ষীয়ান চিত্রশিল্পী তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নীহার মজুমদার, অমরনাথ নন্দী, দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, নির্মল কুমার চন্দ-সহ আরো অনেকে। বিধায়কের হাতে তিন দফা দাবিপত্র তুলে দেন তাঁরা। দীপঙ্কর বলেন, ‘এই দাবিগুলি ছাড়াও উত্তরবঙ্গকে আর্ট ও কালচারাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি জেলা সদরে আধুনিক সরকারি আর্ট গ্যালারি এবং রাজ্য চারুকলা পর্ষদের একটি উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয় হলে শিল্প-শিক্ষায় গতি আসবে।’ তার সংযোজন, এতদিন শুধু আশ্বাসই জুটেছে। বিধায়ক ও নতুন সরকারের কাছে আমাদের অনেক আশা। ওঁরা অনেকক্ষণ ধরে আলোচনা করে আমাদের অভাব-অভিযোগ ও দাবির কথা শুনেছেন।
আমাদের তরফে বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী ও রাজ্য সম্পাদক বাপি গোস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না করা গেলেও শিল্পী মঞ্চের জলপাইগুড়ি শাখার সদস্যদের দাবি, সদর্থক আলোচনা হয়েছে। ওঁরা আমাদের দাবি নিয়ে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।









