Home / খবর / জেলায় জেলায় / দড়ি বেঁধে অভিযুক্তদের ঘোরানো, আইনের শাসন নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন, পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ আইনজীবী, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

দড়ি বেঁধে অভিযুক্তদের ঘোরানো, আইনের শাসন নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন, পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ আইনজীবী, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন একাধিক থানার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের দড়ি দিয়ে বেঁধে জনসমক্ষে ঘোরানোর অভিযোগ তুলে সরব হলেন আসানসোল আদালতের আইনজীবী ও সমাজকর্মী অভিষেক রুইদাস। এই ঘটনাকে মানবাধিকার ও সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নির্দেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রানিগঞ্জ, সালানপুর, বারাবনি-সহ কমিশনারেটের একাধিক থানা এলাকায় গ্রেফতারির অভিযুক্তদের দড়ি দিয়ে বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু অভিযুক্তদের সামাজিকভাবে অপমানিত করছে না, বরং পুলিশের আইনানুগ কার্যপ্রণালী ও নিরপেক্ষতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষভাবে রানিগঞ্জ থানার মামলা নম্বর ২০২/২৬-এর উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁদের গ্রামে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়। কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে এবং কার নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন আইনজীবী অভিষেক রুইদাস।
তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, জনসমক্ষে অপমানের জেরে যদি কোনও অভিযুক্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদেরও বহন করতে হবে।
নিজের অভিযোগের সমর্থনে তিনি প্রেম শঙ্কর শুক্লা vs দিল্লি এডমিনিস্ট্রেশন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যথাযথ কারণ ছাড়া বিচারাধীন অভিযুক্তকে হাতকড়া পরানো বা প্রকাশ্যে অপমানজনকভাবে নিয়ে যাওয়া সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি একই ধরনের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টও রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।
অভিযোগপত্রে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে এবং তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।
পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এই অভিযোগের অনুলিপি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র দফতর, ডিজিপি, আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) এবং বর্ধমান রেঞ্জের আইজি-সহ একাধিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *