Home / খবর / জেলায় জেলায় / পুলিশের তাড়ায় ‘এলাকার ত্রাস’ বেপাত্তা হতেই তিস্তাপারে স্বস্তি, চাষের জমি ফিরে পেয়ে খুশি কৃষকরা

পুলিশের তাড়ায় ‘এলাকার ত্রাস’ বেপাত্তা হতেই তিস্তাপারে স্বস্তি, চাষের জমি ফিরে পেয়ে খুশি কৃষকরা

ছবি : বুবাই শীল

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে পালাবদলের জের। পুলিশের তাড়ায় ঘরছাড়া ‘এলাকার ত্রাস’। শহর লাগোয়া বারোপেটিয়ায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা কৃষ্ণ দাস বেপাত্তা হতেই খুশি তিস্তাপারের কয়েকশ চাষি বলে দাবি। এতদিনে তারা ফিরে পেলেন তাদের চাষের জমি। খুশি নাথিয়ারনচর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজীবিরা। কৃষ্ণ পালিয়ে যেতেই কর্পুরের মতো বেবাক হাওয়া হয়ে গিয়েছে রতন দাস, রণজিৎ দাসের মতো এলাকার তথাকথিত ‘ডনেরাও’। এবারে তিস্তাপারে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষিজীবিরা। তোলাবাজি, জমি দখল, হুমকি-সহ একাধিক কারণে কৃষ্ণ-বাহিনীর ভয়ে মুখে ‘টু’ শব্দটি করতে পারেননি বলেই অভিযোগ তাদের।

দোষিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন কৃষিজীবীদের অনেকেই।সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সদর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হন কৃষ্ণ দাস। বালি পাচার থেকে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত কৃষ্ণ প্রার্থী হওয়ায় ক্ষোভও ছড়ায় তদানীন্তন শাসক দলের একাংশেও। তবে, সরাসরি সে প্রসঙ্গ টানেননি কেউই। গত ৫ মে নির্বাচনের ফল ঘোষনার পর দিন বিজেপি কর্মীদের পিটিয়ে এলাকা ছাড়া হন জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী তথা বারোপেটিয়া র ত্রাস কৃষ্ণ দাস। পুলিশের তাড়া খেয়ে কৃষ্ণ এলাকা ছাড়ার দশ দিনের মাথায় এবার একে একে সামনে আসছে একাধিক অভিযোগ। যার মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর চরের জমিতে আবাদ করা কৃষকদের জমি দখল।

তিস্তা নদীর নাথুয়ার চর সহ বিস্তির্ন এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় জমির ফসল কেটে নেওয়া। জমিতে চাষ আটকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে কৃষ্ণ দাসের অনুগামী বলে পরিচিত রণজিৎ দাস, রতন দাসের মতো কিছু ব্যক্তি। কৃষ্ণ দাস ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা এলাকা ছাড়া হতেই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন তিস্তাচরের কৃষকেরা। নিজেদের জমি এবারে বুঝে নিতে তৎপর হয়েছেন তারা। দিবাকর রায়, গজেন বসাক, ভগীরথ রায়-সহ অন্য কৃষকেরা জানান, কৃষ্ণ ও তার অনুগামীরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়েছে। জমির জন্য তোলা চেয়েছে। না দিতে পারলে সেই জমি দখল করে নিয়েছে। চাষ করতে দেয়নি। ক্ষেতের ফসল কেটে নিয়ে গিয়েছে। সব কিছু সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এবারে আমরা আবার চাষ শুরু করতে পারবেন। তবে, দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *