আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা। আর সেই আবহেই দলের হারের কারণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। নতুন সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আসানসোলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাসু কার্যত দলের একাংশ মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর নিশানায় ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক সহ জেলার একাংশ তৃণমূল নেতৃত্ব, এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা।
দাসুর অভিযোগ, “১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা ভয়ংকর অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দম্ভ আর ক্ষমতার অপব্যবহারই আজ দলের এই পরিণতির কারণ।”
তিনি বলেন, “আমি ২৫ বছর বিরোধী রাজনীতি করেছি, ১৫ বছর শাসক দলে থেকেছি। কিন্তু শেষ কয়েক বছরে কিছু নেতা এমন আচরণ করেছেন যেন জনগণ বলে কিছু নেই। অথচ মানুষই ভোটার, মানুষই শেষ কথা বলে। একসময় যারা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিলেন, এবার তারাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পৌরাণিক উদাহরণ টেনে দাসু বলেন, “যেখানে রাবণের অহংকার টেকেনি, সেখানে এই নেতাদের অহংকার কী করে টিকবে? মানুষের অভিশাপেই আজ তৃণমূলকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে।”
শুধু তাই নয়, আসানসোলের বস্তিন বাজার দুর্গা মন্দির ইস্যুতেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। দাসুর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেনই না যে, ক্ষমতায় আসার পরে ওই মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধি তাঁর নাম ব্যবহার করে দলকে বদনাম করেছে।”
এরপরই দলবদল প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন দাসু। তাঁর অভিযোগ, “এখন যাঁরা তৃণমূলের পতনের জন্য দায়ী, তাঁরাই বিজেপিতে যাওয়ার জন্য লাইন দিচ্ছেন। বিজেপিকে বলব, এইসব সুবিধাবাদীদের জায়গা দিলে ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।”
তবে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দাসু। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় লড়াই করে, মানুষের মধ্যে থেকে দল গড়েছিলেন। আবার যদি সেই আদর্শে ফেরা যায়, মানুষও আবার আস্থা রাখবেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ চরমে উঠেছে, দাসুর এই বিস্ফোরক মন্তব্য তারই প্রকাশ। এখন দেখার, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই মন্তব্যকে কীভাবে নেয় এবং আদৌ কোনও সাংগঠনিক ময়নাতদন্ত শুরু হয় কি না।










