অমল মাজি, বড়জোড়া (বাঁকুড়া):
আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঁকুড়ার বড়জোড়া কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।
গত নির্বাচনের ফলাফল এবং সাম্প্রতিক ভোট প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট—এবার এই আসনে হতে চলেছে কাঁটায় কাঁটায় লড়াই।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়জোড়া কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অলোক মুখার্জি জয়ী হলেও ব্যবধান ছিল অত্যন্ত কম—মাত্র ৩,২৬৯ ভোট। তিনি পান ৯৩,২৯০ ভোট, আর বিজেপির সুপ্রিতি চ্যাটার্জি পান ৯০,০২১ ভোট।
এই সামান্য ব্যবধানই প্রমাণ করে, বড়জোড়া একটি সুইং সিট, যেখানে অল্প ভোটের পরিবর্তনেই ফল উল্টে যেতে পারে।
এখানে প্রধান লড়াই হবে তৃণমূল বনাম বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারও বড়জোড়ায় মূল লড়াই হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়কের উপর নির্ভর করলেও অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
বিজেপি গতবার অল্প ব্যবধানে হার এবং সাম্প্রতিক ভোট বৃদ্ধির প্রবণতা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
আর এখানে বামের ভূমিকা হল ‘গেমচেঞ্জার’?
একসময় বড়জোড়া ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি, ১৯৭৭ থেকে বহুবার এই আসন দখলে রেখেছিল সিপিএম।
বর্তমানে তারা তৃতীয় শক্তি হলেও, তাদের ভোট কোন দিকে যাবে সেটাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রাজ্য রাজনীতির প্রভাব
রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
সম্প্রতি প্রার্থী তালিকায় বড় রদবদল করেছে তৃণমূল, যেখানে ৭৫ জন বর্তমান বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে—যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, দল পরিবর্তনের বার্তা দিতে চাইছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করছে, যা এই ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণ
সব মিলিয়ে বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র এখন একেবারে “টস-আপ” আসন।
সামান্য ভোটের ওঠানামা,
বাম ভোটের দিক পরিবর্তন,
প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাব,
এই তিন ফ্যাক্টরই নির্ধারণ করবে, বড়জোড়ায় শেষ হাসি হাসবে কে।
বড়জোড়া বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিশ্লেশ্বর সিংহের নাম।
তিনি দীর্ঘদিন পুরুলিয়া বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার ভোটের ময়দানে।
অন্যদিকে বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্র (শ্যাম)।
ইনি ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন।
তৃণমূলের অন্দরে অভিযোগ, বিজেপিতে বিশেষ পাত্তা না পেয়ে বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে তৃণমূলের টিকিট জোগাড় করে ময়দানে নেমে পড়েন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা এটা মেনে নিতে পারছেন না।










