অমল মাজি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং নতুন ভবিষ্যতের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে জোরদার প্রচারে নেমেছেন বিজেপির মনোনীত প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে উঠে আসছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী’র নেতৃত্বে দেশজুড়ে যে উন্নয়নের ধারা তৈরি হয়েছে, তার সুফল এবার বাংলাতেও পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই দুর্গাপুর পূর্বে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছেন প্রার্থী।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “দুর্গাপুর পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে যে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বচ্ছ প্রশাসন এবং মানুষের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে আমরা কাজ করতে চাই।”
স্থানীয় স্তরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় সভা, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার জোরদার করা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন ইস্যুতেই সরব।
দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকেই বামুনআড়া, গোপালপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচার চালাতে দেখা যায় তাঁকে। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কুশল বিনিময় ও সমর্থন প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জনসংযোগ জোরদার করছেন তিনি।
প্রচারের সময় চন্দ্রশেখর দাবি করেন, “এলাকার মানুষ এবার পরিবর্তন চান। সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধি হতে চাই আমি।” তিনি অভিযোগ করেন, দুর্গাপুর পূর্বের একাধিক এলাকায় মৌলিক পরিষেবার ঘাটতি স্পষ্ট। বিশেষ করে রাস্তার আলোর অভাবে বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এছাড়াও আইকিউ সিটি ও মিশন হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর কথায়, “এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার দিকেও আঙুল তোলেন চন্দ্রশেখর। রাস্তার খানাখন্দ, জলনিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই বললেই চলে। গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়ন এই কেন্দ্রে হয়নি।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্গাপুর পূর্বে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি প্রার্থী কতটা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।










