ছবি: রাজীব বসু
রাজ্য বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় চার শতাংশ হারে ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বর্ধিত ডিএ আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারের পেনশনভোগীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গ হেল্থ স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পান। নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২ লক্ষ টাকার বেশি চিকিৎসা খরচ হলে অতিরিক্ত অংশের ৭৫ শতাংশও ক্যাশলেস পরিষেবার আওতায় আসবে। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
এদিকে ডিএ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সামনে এসেছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে জমে থাকা এরিয়ার যে কোনও মূল্যে পরিশোধ করতে হবে এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
রাজ্য সরকারের তরফে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল, রাজ্যের আর্থিক কাঠামো কেন্দ্রের থেকে আলাদা এবং রাজ্য পঞ্চম বেতন কমিশনের রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার পক্ষে তারা। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ডিএ নির্ধারণে এআইসিপিআই অনুসরণ করতেই হবে। যদিও বছরে দু’বার ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না বা ডিএ মৌলিক অধিকার কি না, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ রাজ্য সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। শুধু ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতেই রাজ্যের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা। রাজ্য সরকার আগেই আদালতে জানিয়েছিল, কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণায় সরকারি কর্মীদের একাংশের মত, আগে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।










