আসানসোল ও বার্নপুর : সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসানসোল আসেন। সেদিন তিনি আসানসোলে দলের জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সেই সাংবাদিক সম্মেলনে বার্নপুর সেল আইএসপি বা ইস্কো কারখানা পরিচালিত পাঁচটি স্কুল বেসরকারি করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন।
তার উত্তরে তিনি বলেন, স্কুল চালানো সেল আইএসপির কাজ নয়। আমি যতদূর জানি ইস্কো কারখানার কাজ ইস্পাত তৈরি করা। বার্নপুর সেল আইএসপির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন আসানসোল পুরনিগমের ৭৮ নং তৃনমুল কংগ্রেসের কাউন্সিলার অশোক রুদ্র সহ অন্যরা।
সেই সম্পর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওদের তো আর কোনও কাজ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বাংলার শিক্ষার হাল কি অবস্থা হয়েছে, তা কারোর অজানা নয়।
রাজ্যে ৮ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ইস্পাত নগরী বার্নপুরে শোরগোল পড়েছে। তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ইস্কো পরিচালিত বার্নপুরের স্কুলগুলির বেসরকারিকরণের বিরোধিতায় প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনে থাকা কাউন্সিলর অশোক রুদ্র কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন।
এদিন অশোক রুদ্র এই প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেল আইএসপি এই স্কুলগুলি পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে সেগুলিকে বেসরকারিকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ছাত্র ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, শুধু লাভের কথাই চিন্তা করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি স্কুল চালানো সেল আইএসপির দায়িত্ব না হয়, তাহলে এত বছর ধরে কেনও এই স্কুলগুলি চালানো হচ্ছিল?
তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও রেলের পক্ষ থেকে আসানসোলের স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন আন্দোলনের জেরে রেল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় এবং স্কুলগুলি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেল আইএসপির স্কুলগুলি কোনওভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া হবে না এবং সেগুলির বেসরকারিকরণও মানা হবে না। তবে ভবিষ্যতে যদি কোনও কারণে বেসরকারিকরণ হয়, সেক্ষেত্রে গরীব ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি দাবি জানান। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী দেন।










