নদিয়ার হাঁসখালি গণধর্ষণ ও খুন মামলায় কঠোর শাস্তির রায় ঘোষণা করল রানাঘাট মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার আদালত জানায়, তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্র-সহ তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, এই মামলায় আরও কয়েক জন দোষীকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবারই এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনা গোটা রাজ্যে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্রের জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এক নাবালিকাকে। সেই পার্টিতেই অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্র ও তার কয়েক জন বন্ধু মিলে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।
পরবর্তীতে ওই নাবালিকার মৃত্যু হলে, অভিযোগ ওঠে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়। নির্যাতিতার বাবা-মা হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ তুলে তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্টের নির্দেশে পরে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তার নির্দেশও দেয় আদালত।
সিবিআই তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার রানাঘাট মহকুমা আদালত মামলার ৯ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার সেই দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই রায়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হাঁসখালি কাণ্ড, যা এক সময় রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র ঝড় তুলেছিল।










