আজ শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছ’বছর আগে এই তাহেরপুর থেকেই উদ্বাস্তুদের স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সিএএ কার্যকর হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হলেও, মোদীর এই সফরের প্রাক্কালে ফের নাগরিকত্বের প্রশ্নই উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে উদ্বাস্তু ও মতুয়াপ্রধান এলাকায় তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা ও রাজনৈতিক জনসভা—দু’টিই রয়েছে। সঙ্গে থাকছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন মোদী। রাজনৈতিক মহলের নজর, এই সভা থেকে রানাঘাট-বনগাঁ সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে কী বার্তা দেন তিনি।
তাহেরপুরের নেতাজি পার্ক ময়দানে সভাস্থল তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান কলকাতায় নামার কথা। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তাহেরপুর পৌঁছে প্রথমে প্রশাসনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, ৩,২০০ কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশকে চার লেনে উন্নীত করার কাজের উদ্বোধন এবং বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশের চার লেন প্রকল্পের শিলান্যাস।
এর পর বেলা ১২টা থেকে রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেবেন মোদী। এসআইআর শুরুর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সফর হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এই সভা। উদ্বাস্তু ও মতুয়াপ্রধান এলাকায় ভোটার তালিকা ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিতে পারেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টেও সফরের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বার্তা, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অপশাসন ও দুর্নীতির অভিযোগ—দু’দিকই উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। সব মিলিয়ে, তাহেরপুরের সভা থেকে মোদীর ভাষণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।










