মাইথন : প্রতি বছরই ডিসেম্বর ও নতুন বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে পিকনিক করতে মাইথনে ভিড় জমান পর্যটকেরা। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হবেনা। তবে এবার মাইথনে গাড়ি নিয়ে পিকনিক করতে এলে দিতে হবে “পার্কিং ফি “।
মাইথন জলাধারের থার্ড ডাইক, ফায়ারিং রেঞ্জ, সিদাবাড়ি এবং সুলেমান পার্কের মত পিকনিক স্পট এবার থেকে পিকনিক করতে এলে দিতে হবে এই “পার্কিং ফি “।
রবিবার থেকে এই “পার্কিং ফি ” কার্যকর করা হয়েছে।
ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই পিকনিকের মরশুম শুরু হয়ে গেছে। এদিন সকালে মাইথন গিয়ে ড্যাম বা জলাধারে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়। কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে। কেড় বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে এসেছে পিকনিক করতে। মাইথনে পিকনিক করার পাশাপাশি বাড়তি পাওনা বা আকর্ষণ হল পাহাড়ে ঘেরা নীল জলরাশির উপর নৌকা বিহার। কিন্তু পর্যটকরা অভিযোগ করেন, পার্কিং ফি নেওয়া হলেও, মাইথনে সেই রকম ভাবে তারা কোনও সুবিধা পান না। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। নেই শৌচাগার। লাগানো নেই লাইট। এছাড়াও পিকনিক করার স্পট গুলি অপরিষ্কার। পরিচ্ছন্নতা বলতে কিছুই নেই। পিকনিক স্পটে গরু ও কুকুর ঘুরে বেড়ায় ।
সালানপুর ব্লক প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, থার্মোকলের কোনও কিছু ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু, দেখা গেল পিকনিক স্পটে পড়ে রয়েছে থার্মোকলের থালা ও বাটি। এমনকি নৌকাবিহারের সময় ব্যবহার করা হচ্ছে না লাইফ জ্যাকেটও। নেই পুলিশ প্রশাসনের তেমন নজরদারিও।
এখানে থাকা নৌকা চালকদের বক্তব্য, তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণের লাইফ জ্যাকেট নেই। লাইফ জ্যাকেট অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
এদিন মাইথনে কি হারে ‘পার্কিং ফি’ নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করে লাগানো হয়েছে ফ্লেক্স। বলা হয়েছে বড় বাস ২৫০ টাকা, মিনি বাস ২০০ টাকা, চারচাকা ১৫০ টাকা ও অটো/টোটো ৫০ টাকা নেওয়া হবে। এছাড়াও পিকনিক স্পটে পরিষ্কার করার নামে নেওয়া হচ্ছে ৫০/১০০ টাকা।
এক ব্যক্তি বলেন, মাইথনে রাস্তা দিয়ে পার করলেই দিতে হচ্ছে এই পার্কিং ফি। পিকনিক করতে না গেলেও দিতে হচ্ছে এই ফি ।
এই ব্যাপারে সালানপুর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও মাইথনে পর্যটকদের জন্য কিছু নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে নৌকা বিহারের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতেই হবে। পিকনিক স্পটে ডিজে বাজানো একেবারে নিষিদ্ধ। নেশা জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা যাবে না। তাছাড়া থার্মোকল ব্যবহার করা যাবে না । একই সাথে পিকনিক স্পটের যারা টেন্ডার নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু নিয়ম করা হয়েছে। যেমন এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে ।
বিডিও আরও বলেন, এখানে যারা পিকনিক বা বেড়াতে আসবেন, তারা যাতে কোনও অসুবিধা না পড়েন, সেদিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করতে হবে।
এই ব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র বলেন, মাইথন পর্যটনকেন্দ্রকে সাজানোর জন্য বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় নিজে উদ্যোগী হয়েছেন। কিন্তু ডিভিসির পক্ষ থেকে কোনও অনুমতি না পাওয়ার কারণে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মাইথন থার্ড ডাইক থেকে সিধাবাড়ির দিকে যে রাস্তাটি গেছে সেই রাস্তাটি একেবারে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ওই রাস্তাটি গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। রাস্তাটির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল পঞ্চায়েত সমিতি থেকে। কিন্তু ডিভিসির তরফে কোনও অনুমতি না পাওয়ায় রাস্তাটির কাজ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তবে পিকনিকের সময়ের জন্য নিয়ম মেনে করা হয়েছে। সেই টেন্ডারের মধ্য দিয়ে এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, নৌকা চালকদের লাইভ জ্যাকেট দেওয়া, লাইটের ব্যবস্থা করা, শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে । এর পাশাপাশি, পুলিশ প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।










