রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের মৃত্যু, বিএলও-দের অতিরিক্ত কাজের চাপ–এসব নিয়েই অভিযোগের সুর ক্রমশ তীব্র হয়েছে। শুক্রবার সেই অভিযোগগুলিই সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনার পরও কমিশনের কোনও উত্তরেই সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, “একটিও প্রশ্নের ঠিকঠাক জবাব দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।”
এর আগে বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের পর গোটা দেশের ১২টি রাজ্যে SIR শুরু করেছে কমিশন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের পাঁচ দফা প্রশ্ন—
১) বাঙালি পরিচয়কে নিশানা?
তৃণমূলের অভিযোগ, SIR-এর নাম করে বাঙালি ভোটারদের পরিচয়কেই প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকানোর যুক্তি দেখানো হলেও, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, অরুণাচল, মণিপুরের মতো সীমান্ত রাজ্যে SIR না-হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।
২) এক বছর আগেই লোকসভা নির্বাচন, তবে তালিকা ‘অবিশ্বস্ত’ কীভাবে?
গত লোকসভা ভোট এই তালিকার ভিত্তিতেই হয়েছে। তাহলে আচমকা সেই তালিকাই কেন সন্দেহের তালিকায়—জানতে চেয়েছে তৃণমূল।
৩) মৃত্যু ও অসুস্থতার অভিযোগ
SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও আতঙ্কের ঘটনা তুলে ধরে তৃণমূল জানায়—
- আতঙ্কে অসুস্থ ৪১ জন, যার মধ্যে মৃত ৩৫
- অতিরিক্ত চাপের ফলে অসুস্থ ১৯ জন বিএলও, মৃত ৪ জন
- ১৫ জন বিএলও এখনও অসুস্থ
প্রশ্ন তোলা হয়—“এই মৃত্যুর দায় কার? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি এর দায়িত্ব নেবেন?”
তাদের অভিযোগ, বিএলও-দের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সহায়তা বা সময় দেওয়া হয়নি। চাপের জেরে দুর্ঘটনা বেড়েছে।
৪) কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূলের দাবি, SIR নিয়ে তাদের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, অথচ বিজেপির কোনও অনুরোধ সঙ্গে সঙ্গে মানা হচ্ছে। বহিরাগত বিএলএ নিয়োগ বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বাদ দেওয়ার ঘটনাও পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ।
৫) ‘এক কোটি নাম বাদ যাবে’—বিজেপির মন্তব্যে নীরব কেন কমিশন?
তৃণমূল প্রশ্ন করে, বাংলায় বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন ভোটার তালিকা থেকে এক কোটি নাম বাদ যাবে—কমিশন কি তা নিয়ে কোনও তদন্ত করবে না? তা হলে কি কমিশন বিজেপির নির্দেশেই চলছে?
প্রতিনিধি দলে থাকা তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়ান বলেন— “আমরা এসআইআর-এর বিরোধী নই, কিন্তু কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই যে ভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। বিজেপির সুবিধা করতে গিয়ে কমিশনের এই হঠকারিতা বরদাস্ত করা হবে না।”
সাংসদ শতাব্দী রায়ের প্রশ্ন— “বিজেপি নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছেন এক কোটি নাম বাদ যাবে—কেন তাঁদের থামানো হচ্ছে না? বিজেপিই কি তবে কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে?”
এসআইআর নিয়েই রাজ্য–কমিশন সংঘাত আরও চড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।










