রূপনারায়ণপুর : ৯ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ৩২ লাখ ১ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু সেই রাস্তাতেই পিচ ঢালার পর মানুষজন হাতে করে রাস্তার পিচ তুলে নিতে পারছেন। এমনই পাতলা আস্তরণের পিচ বিছানো হয়েছে সালানপুর ও বারাবনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লকের সংযোগকারী রাস্তায়।
এই অভিযোগে আজ ১২ নভেম্বর রূপনারায়ংপ্পুর কুসুমকানালি এলাকায় মানুষজন ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। দেখা যায় রাস্তাঘাট থেকে সামান্য চেষ্টাতেই পিচের চাকলা তুলে ফেলা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা চরিত্রের পর পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের উদ্যোগে রূপনারায়ণপুর থেকে গৌরাংডি হাটতলা পর্যন্ত এই ৯ কিলোমিটার ১৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। সেই রাস্তারই এমন বেহাল সংস্কার নিয়ে মানুষজনের অভিযোগের অন্ত নেই।
উল্লেখ্য, এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এই রাস্তার সংস্কার কাজের সূচনা হয়েছিল। বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে কাজের সূচনা করেছিলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান। সংস্কারের জন্য সময় বরাদ্দ করা হয় এক বছর।
রাস্তার কাজ নিয়ে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রী আরমান বলেন, এর আগেও কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারকেও ডেকেছিলেন এবং তখনকার মত সমস্যা মিটে গিয়েছিল। আজ অভিযোগ পাওয়ার পরেই তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করলে ঠিকাদার তাকে জানিয়েছেন ঠান্ডার মধ্যে রাস্তার পিচ জমতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগছে, সেই সময়ের পরে আর এমন বিপত্তি ঘটবে না। যদিও এ প্রসঙ্গে শ্রী আরমান বলেন রাস্তা সংস্কারের পর পরবর্তী পাঁচ বছর এই রাস্তার দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। তবুও নতুন রাস্তার পিচ কিভাবে হাতে করেই তুলে ফেলা যাচ্ছে, সেই বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখতে আবার উঠে পড়ে লাগবেন বলে জানান।
অন্যদিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি পশ্চিম বর্ধমান ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার সব্যসাচী ওঝা বলেন এই রাস্তায় পিচ ঢালার ক্ষেত্রে তারা একটি নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হবে কিনা তা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন আগামীকালই দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে এই রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য রূপনারায়ণপুরে পাঠাচ্ছেন।
যদিও ভুক্তভোগী মানুষজন প্রশ্ন তুলেছেন নতুন রাস্তার কাজ এইভাবে খারাপ হবে কেন? তারা বলছেন অত্যন্ত পাতলা চাদরের মত পিচ বিছানো হচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তার ভার বহন ক্ষমতা খুব বেশি ১৫ টন হলেও অন্ততপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ টন ভারী যানবাহন চলাচল করার সম্ভাবনা। ফলে এই রাস্তার স্থায়িত্বও খুব বেশি দিন হবে না বলেই তাদের আশঙ্কা।

কিন্তু জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে আইআরডিএফ তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ সড়ক যোজনার অন্তর্ভুক্ত এই রাস্তার কাজ কেন ঠিকাদারের মর্জির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মানুষজন। কেন সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলি এই কাজের সঠিক তদারকি করছেন না সেই প্রশ্নও তারা তুলেছেন। সাইট ইঞ্জিনিয়ার কেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন না সেই বিষয়টি তোলেন এক রাজনৈতিক নেতা। তিনি বলেন যে কোনো খারাপ কাজের সরাসরি প্রভাব রাজনৈতিক দলের উপরে পড়ে, কিন্তু সরকারি দপ্তরগুলি উদাসীন থাকে তাদের দায়িত্ব নিয়ে। অবিলম্বে গৌরাংডি রোডের সংস্কার কাজ যাতে সঠিকভাবে হয় তার দাবি জানানো হয়েছে।










