দুর্গাপুর: কাঁকসা থানার শেরপুর এলাকায় এক রেল কর্মীর বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সকলেই কলকাতায় ছেলের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। বাড়ির তালা ভেঙে আলমারি ও লকার তছনছ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সোনার গয়না ও নগদ টাকা, এমনই অভিযোগ পরিবারের।
জানা গেছে, শেরপুর এলাকার বাসিন্দা ও রেল কর্মী সুবীর চন্দ্র ঘোষ স্ত্রীকে নিয়ে দু’দিনের জন্য কলকাতায় ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রবিবার রাতে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন প্রধান দরজার তালা ভাঙা। ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে লণ্ডভণ্ড অবস্থা। ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, আলমারি ও লকার ভাঙা। এরপরই স্পষ্ট হয়, চোরের দল বাড়ির মূল্যবান সমস্ত গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, বাড়ি ফাঁকা থাকার বিষয়টি আগে থেকেই জানত দুষ্কৃতীরা এবং পরিকল্পনা করেই এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রেল কর্মী সুবীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সোনার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। জীবনের সঞ্চয় এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।
এই ঘটনায় শুধু ঘোষ পরিবার নয়, গোটা শেরপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দিনের পর দিন এলাকায় নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় চুরির ঘটনা ঘটল?
কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় টহলও বাড়ানো হয়েছে।
চুরির এই দুঃসাহসিক ঘটনায় আবারও সামনে এল ফাঁকা বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন।









