অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সার্ধশতবর্ষে এসে মাতৃবন্দনা শহরে। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের সমাজপাড়ার স্টুডেন্ট হেলথ হোমে ‘বন্দেমাতরম ১৫০’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে ইতিহাস অনুসন্ধানী শিক্ষক মঞ্চ। কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন ইতিহাসবিদ আনন্দ গোপাল ঘোষ, সমাজসেবী জ্যোতি প্রসাদ রায়, দিগন্ত চক্রবর্তী, বাবলু রায় প্রমূখ। বিভিন্ন শ্রেণির ‘ইতিহাসপ্রিয়’ পড়ুয়ারাও হাজির ছিলেন অভিভাবকদের নিয়ে।
ইতিহাসবিদদের একাংশের বক্তব্য, ইংরেজ আমলে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথথ এই গানটি প্রকাশিত নয়। পরে, আনন্দমঠ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে কালজয়ী হয়ে ওঠে এই গান। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৯ সালে শ্রীঅরবিন্দ Mother, I bow to thee! শিরোনামে বন্দে মাতরম্ গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
এক সময়ে স্বাধীনতাকামী প্রতিটি মানুষের অন্তরাত্মায় জায়গা করে নেয় এই গান। এই গান গেয়েই ফাঁসির মঞ্চে উঠেছেন অকুতোভয় দেশপ্রেমিকেরা। এই গান রীতিমতো ভীতির সঞ্চার করে লালমুখো শাসকদের। ভারতভূমির সেই জাতীয়তাবাদী সৃষ্টিকেই গান, কবিতা, বক্তৃতায় স্মরণ করা হল।
এদিন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান সবাই। আয়োজক কমিটির সভাপতি তথা শিক্ষক বাবলু রায় বলেন, ‘ইতিহাসকে না জানলে ভবিষ্যতে এগোনো যায় না। আমরা জাতীয় স্তর শুধু নয় স্থানীয় স্তরের ইতিহাস নিয়েও কাজ করছি।’









