জামুড়িয়া ও আসানসোল: অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে চলা লাগাতার অভিযানের মধ্যেই বড় সাফল্য পেল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। বুধবার জামুড়িয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করল দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা অভিযুক্ত মাখন পালকে। বৃহস্পতিবার তাকে আসানসোল আদালতে পেশ করে পুলিশ ৮ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। তবে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে অভিযুক্তকে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এই গ্রেফতারির পর থেকেই জামুড়িয়া-সহ গোটা শিল্পাঞ্চলে অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মাখন পালের নাম অবৈধ বালি উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এলাকায় তিনি ‘বালি মাফিয়া’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, তার নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালি ব্যবসার একটি বড় চক্র সক্রিয় ছিল।
এই বিষয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানান, ৮ জুন দায়ের হওয়া একটি মামলায় মাখন পালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মামলায় একটি বালিভর্তি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি। তদন্ত এখনও চলছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিধানসভা নির্বাচনের আগে জামুড়িয়ার এক জনসভায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে মাখন পালের নাম উল্লেখ করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারির পর সেই বক্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এর আগেই জাতীয় সড়ক ১৪-এ বিএলআরও-র অভিযানে গভীর রাতে অতিরিক্ত বোঝাই বালিভর্তি চারটি ট্রাক আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই অবৈধ বালি পাচার রুখতে পুলিশ ও প্রশাসন অভিযান আরও জোরদার করে। মাখন পালের গ্রেফতারিকে সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, কয়েকদিন আগেই একটি হোটেলে মাখন পালকে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয় মহলের দাবি, সেখানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তাকে ঘিরে চাপ বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে জড়িত আরও কেউ পুলিশের জালে ধরা পড়বে কি না, সেদিকেই এখন নজর জামুড়িয়া-সহ গোটা শিল্পাঞ্চলের।










