অমল মাজি, দুর্গাপুর: শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে পূর্ব ভারতের অন্যতম স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিলেন দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের ইএসআই হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হোক।
বিধায়কের বক্তব্য, দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। অথচ উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনও বহু রোগীকে কলকাতা বা অন্যত্র ছুটতে হয়। ফলে ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর করা গেলে চিকিৎসা পরিষেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দুর্গাপুর ইএসআই হাসপাতালের নিজস্ব পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত জমি এবং বিপুল রোগী পরিষেবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এটিকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।
স্বাস্থ্য মহলের মতে, মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। জেলার ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের এলাকায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আসানসোলের ইএসআই হাসপাতাল চত্বরে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে ইএসআইসি। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি রাজ্য বাজেটেও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুরের ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর শুধু শিল্পনগরী হিসেবেই নয়, বরং পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা, গবেষণা ও মেডিক্যাল শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এখন নজর রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের দিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোনো হয়, সেটাই এখন দেখার।









