দুর্গাপুর: একসময় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল দুর্গাপুর কেমিক্যালস। জল পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লোরিন, ব্লিচিং পাউডার-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো এই কারখানা। কিন্তু উৎপাদন বন্ধের প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর আজ সেই কারখানার ১৮২ জন কর্মীর জীবন কার্যত অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।
গত সাত মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের উপর নেমে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট। সংসার চালানো, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা খরচ, সব কিছুই এখন প্রশ্নের মুখে। বেতন বকেয়া থাকায় অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত, আবার কেউ কেউ ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দূষণের কারণ দেখিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে কারখানা পুনরুজ্জীবন বা কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা।
কারখানার কয়েকজন কর্মী বলেন, সাত মাস যাবত কোনও বেতন নেই। একপ্রকার না খেয়ে দিন কাটছে, সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পিএফের টাকা থেকেও ঋণ তুলতে পারছি না। পিএফ ও ইএসআই সুবিধাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ওই কর্মীরা নতুন সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, রাজ্যে এখন নতুন সরকার এসেছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, দুর্গাপুর কেমিক্যালসের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমাদের বেতন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুর্গাপুরে বিজেপি বিধায়ক।
তিনি জানান, কারখানার আবাসনে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর উদ্যোগ নিয়ে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে।
বিধায়কের দাবি, কর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে সরকার অবগত। জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বকেয়া বেতন মেটানো এবং কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
দুর্গাপুরের শিল্প মানচিত্রে একসময় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকা, এই রাজ্যের অধীনে থাকা কারখানার ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। কর্মীদের একটাই দাবি, বকেয়া বেতন মিটিয়ে কারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করা হোক। নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, বহু বছরের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ফের একবার শিল্পের চাকা ঘুরুক দুর্গাপুর কেমিক্যালসে।
শিল্পনগরীর বুক থেকে এখন একটাই আর্তি, এই কারখানা বাঁচান, শ্রমিকদের বাঁচান।










