চুরুলিয়া (জামুড়িয়া): রাজ্যে পালাবদলের পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে গাছ চোর চক্র, এমনই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলের একাংশের। প্রশাসন যখন নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও তদন্ত নিয়ে ব্যস্ত, তখন সেই সুযোগে পরিবেশ ধ্বংসের কাজে নেমেছে গাছ মাফিয়ারা। এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া পুলিশ আউটপোস্ট এলাকার আনন্দপুরে দিনের আলোয় দেদার গাছ কাটার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আনন্দপুরের একটি পুকুরপাড় এলাকায় অত্যাধুনিক গাছ কাটার মেশিন, করাত ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় একদল ব্যক্তি। অভিযোগ, হাসিবুল নামে এক কুখ্যাত গাছ মাফিয়ার নেতৃত্বে ওই দলটি একের পর এক মূল্যবান গাছ কেটে ফেলতে শুরু করে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এই কর্মকাণ্ড চলতে দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি নজরে আসে এলাকার সামাজিক সংগঠন ‘মা তারা ফাউন্ডেশন’-এর সদস্যদের। পরিবেশ ধ্বংসের এই ছবি দেখে তারা তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদে সরব হন এবং খবর দেন চুরুলিয়া পুলিশ আউটপোস্টে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়।
পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়েই পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তবে তৎপর পুলিশ কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকে গাছ কাটার জন্য ব্যবহৃত একাধিক মেশিন, করাতসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোটরবাইকও আটক করেছে পুলিশ।
মা তারা ফাউন্ডেশনের সদস্য রাহুল মণ্ডল বলেন, গত এক মাস ধরে আমরা বিভিন্ন দুর্নীতি ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এই গাছ কাটার ঘটনার পেছনেও একটি বড় চক্র কাজ করছে। হাসিবুল নামে এক গাছ মাফিয়ার নাম উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাছ কাটার অনুমতি ছিল কি না, কার নির্দেশে এই কাজ চলছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গাছ কাটার বেআইনি কারবার চলছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংসের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, কার মদতে এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গাছ মাফিয়ারা? তদন্তে সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিশ।










