Home / খবর / জেলায় জেলায় / চাকরির টোপে ২০ লক্ষ টাকার ‘প্রতারণা’, পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে ঘিরে তোলপাড়

চাকরির টোপে ২০ লক্ষ টাকার ‘প্রতারণা’, পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে ঘিরে তোলপাড়

পাণ্ডবেশ্বর: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, যুবকদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে এবার গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের কেন্দ্রে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই পাণ্ডবেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি।
অভিযোগকারী খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, পাণ্ডবেশ্বর থানার জোয়ালভাঙা গ্রামের বাসিন্দা।
তাঁর অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে পরিচয়ের সূত্রে প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই এলাকার ১৫ জন বেকার যুবককে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে দাবি। অভিযোগ, প্রত্যেক যুবকের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে, মোট ৩০ লক্ষ টাকা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল।
খগেন্দ্রনাথের দাবি, চাকরির আশায় বহু পরিবার ধার-দেনা, জমি বন্ধক, সঞ্চয় ভেঙে টাকা জোগাড় করে। ধাপে ধাপে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও চাকরির কোনও হদিশ মেলেনি। উল্টে টাকা ফেরতের দাবি তুলতেই শুরু হয় টালবাহানা, এমনটাই অভিযোগ।
খগেন্দ্রনাথের বক্তব্য, “এলাকার ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে টাকা জোগাড় করেছিলাম। অনেকেই ঋণ করে টাকা দিয়েছে। চাকরি হয়নি, টাকা ফেরতও পাইনি। বহুবার বলা সত্ত্বেও শুধু আশ্বাস মিলেছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
এই অভিযোগ সামনে আসতেই পাণ্ডবেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের প্রশ্ন,“যুবকদের চাকরির স্বপ্ন কি তবে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছিল?” যদিও অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁর দাবি, “আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে। মানুষের পাশে থেকেছি, আমার কাছে কেউ খালি হাতে ফেরেনি।”
এদিকে, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ও লাউদোহা এলাকাতেও চাকরির নামে প্রতারণা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের এক ব্লক সভাপতির গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। ফলে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এখন নজর পুলিশের তদন্তে। চাকরির নামে সত্যিই কি কোটি টাকার প্রতারণার জাল? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? উত্তর খুঁজছে গোটা এলাকা।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *