Home / খবর / জেলায় জেলায় / দুর্গাপুরে ‘নকশাহীন নগরায়ণ’ বিতর্ক, পুরসভার নথি ছাড়াই হাজার হাজার বাড়ি? হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ

দুর্গাপুরে ‘নকশাহীন নগরায়ণ’ বিতর্ক, পুরসভার নথি ছাড়াই হাজার হাজার বাড়ি? হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ

দুর্গাপুর: শিল্পনগরী দুর্গাপুরে বাড়ি নির্মাণ ঘিরে এবার সামনে আসছে এক বিস্ফোরক বিতর্ক। অভিযোগ, শহরের একাধিক এলাকায় অবৈধ জায়গায় গত কয়েক বছরে গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার বাড়ি, যাদের নেই অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, বৈধ নকশা কিংবা প্রয়োজনীয় পুরসভার নথিপত্র। অথচ প্রশ্ন উঠছে, যদি বাড়িগুলি ‘অবৈধ’ বা নথিহীন হয়, তাহলে সেই বাড়িগুলি কিভাবে বিদ্যুৎ, জল সংযোগ পাচ্ছে? আরও বড় প্রশ্ন, কিভাবে পুরসভা সেইসব বাড়ি থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছে?

এই বিতর্ক ঘিরে নাগরিক মহলের একাংশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে জমির মিউটেশন, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, বিভিন্ন ফি ও কর জমা দিয়ে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে মোটা অঙ্কের খরচ বহন করছেন, অন্যদিকে শহরের বহু এলাকায় অভিযোগ উঠছে, নিয়ম না মেনেই বাড়ি তৈরি হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, বহু ক্ষেত্রে জবরদখল জমি, বিতর্কিত প্লট, পুকুর, জলাশয়ের জমি কিংবা কৃষিজমির চরিত্র পরিবর্তন না করেই বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। অভিযোগ আরও গুরুতর, একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে ‘অলিখিত ছাড়পত্রে’ বহু নির্মাণকাজ হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে। নাগরিকদের প্রশ্ন, যদি কোনও বাড়ির বৈধ নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন না থাকে, তাহলে পুরসভা সেই বাড়ির অস্তিত্ব স্বীকার করে কিভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স নিচ্ছে? অনেকের মতে, হোল্ডিং নম্বর দেওয়া বা ট্যাক্স গ্রহণ কি পরোক্ষে সেই নির্মাণকে বৈধতা দেওয়ার সমান?
যদিও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কর আদায় মানেই কোনও নির্মাণ আইনগতভাবে বৈধ, এমনটা সবসময় নয়, কারণ রাজস্ব আদায় ও নির্মাণের বৈধতা দুটি আলাদা প্রশাসনিক বিষয়। তবে এই নিয়ে বিতর্ক প্রবল।
একইসঙ্গে উঠছে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগ নিয়েও প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, “যদি বাড়ির কাগজপত্রই না থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ মিলছে কীভাবে? জলের লাইনের অনুমোদনই বা দেওয়া হচ্ছে কোন ভিত্তিতে?” যদিও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই জমির মালিকানা, পরিচয়পত্র, কর প্রদানের রসিদ বা অন্যান্য নথির ভিত্তিতে পরিষেবা সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, কিন্তু তা নির্মাণের বৈধতার নিশ্চয়তা দেয় কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শহরের একাংশের মানুষের অভিযোগ, এতে তৈরি হয়েছে আইনের অসম প্রয়োগের ছবি। তাঁদের বক্তব্য, “যারা নিয়ম মেনে সব নথি করছে, তাদেরই বাড়তি খরচ ও হয়রানি। আর যারা কিছুই করছে না, তারা দিব্যি বাড়ি বানিয়ে বিদ্যুৎ, জল সব পেয়ে যাচ্ছে। তাহলে আইন কি শুধু নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য?”
এদিকে নাগরিক মহলের একাংশের দাবি, গোটা দুর্গাপুর জুড়ে নথিহীন ও বেআইনি নির্মাণের পূর্ণাঙ্গ অডিট করা হোক। কত বাড়ির বৈধ নকশা নেই, কত নির্মাণ জবরদখল জমিতে হয়েছে, কোথায় পুরসভার নজরদারিতে গাফিলতি হয়েছে এবং কারা এর পেছনে প্রভাব খাটিয়েছে, সব তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি উঠেছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দুর্গাপুরে ‘নকশাহীন নগরায়ণ’-এর এই বিতর্কে প্রশাসন কি কড়া পদক্ষেপ করবে, নাকি অভিযোগের পাহাড়ের মাঝেই চলবে আগের মতো সবকিছু?
অন্যদিকে আজ এ ডি ডি এ সাথে দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব নিলেন ডি এম সাহেব।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *