Home / খবর / জেলায় জেলায় / সালানপুরে বালির নিলামে রেকর্ড দাম, নির্মাণ শিল্পে বড় ধাক্কার আশঙ্কা, পুজোর আগেই থমকে যেতে পারে কাজ

সালানপুরে বালির নিলামে রেকর্ড দাম, নির্মাণ শিল্পে বড় ধাক্কার আশঙ্কা, পুজোর আগেই থমকে যেতে পারে কাজ

সালানপুরে বাজেয়াপ্ত বালির অনলাইন নিলামে নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যে বালির উপর ভরসা করে স্থানীয় নির্মাণ শিল্প কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিল, সেই বালির দাম নিলামে কার্যত দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এখন দুশ্চিন্তায় প্রমোটার, ঠিকাদার, নির্মাণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শ্রমিক মহল।
প্রশাসনের বাজেয়াপ্ত করে রাখা সালানপুর ব্লকের নামোকেশিয়া ও জিৎপুর এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার সিএফটি বালি অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। শুরুতে ধারণা ছিল, প্রতি ১০০ সিএফটি বালির দাম প্রায় ৪ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর নিলামে সেই দাম পৌঁছে যায় প্রতি ১০০ সিএফটি প্রায় ৮,১০০ টাকায়, যা সকলের ধারণাকে ছাপিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়ার ‘তারা মা’ সংস্থা প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা দিয়ে পুরো বালির মজুত কিনে নেয়। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, পরিবহণ, লোডিং-আনলোডিং এবং অন্যান্য খরচ যোগ হলে বাজারে এই বালির দাম প্রতি ১০০ সিএফটি ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এর ফলে সাধারণ বাড়ি নির্মাণকারী মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ও মাঝারি প্রমোটারদের মাথায় হাত পড়েছে। নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, এই দামে বালি কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। তাঁদের আশঙ্কা, নিলামে কেনা বালির বড় অংশ স্থানীয় বাজারে না থেকে কলকাতা-সহ বড় শহরের বাজারে চলে যাবে, ফলে সালানপুর ও আশপাশের এলাকায় বালির সংকট আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার বৈধ নদীঘাটের বালির মূল্য প্রতি ১০০ সিএফটি ১,২০০ টাকা নির্ধারণ করলেও, অজয় নদের চিত্তরঞ্জন-জিৎপুর সংলগ্ন বৈধ বালি ঘাট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেই সুবিধা স্থানীয় মানুষ পাচ্ছেন না। ফলে বাজারে কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন দামে বালি বিক্রির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্মাণ শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, পুজোর আগে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বহু নির্মাণ প্রকল্প থমকে দিতে পারে। শুধু নির্মাণ ব্যবসাই নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সিমেন্ট, ইট, রড, পরিবহণ এবং দৈনিক মজুরির উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকায়। ইতিমধ্যেই কাজের অভাবে বহু শ্রমিক অন্য জেলায় পাড়ি দিতে শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
যদিও কয়েকটি প্রমোটার সংস্থা জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির উপর আরও কিছুদিন নজর রাখার পরই নতুন প্রকল্প শুরু করা হবে কি না, অথবা চলমান নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন, বালির এই আকাশছোঁয়া দাম কি সালানপুরের নির্মাণ শিল্পকে থামিয়ে দেবে, নাকি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? পুজোর আগে সেই উত্তরই খুঁজছে গোটা শিল্পমহল।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *