দুর্গাপুর: একই রাস্তা। একই মেরামতির কাজ। অথচ সেই রাস্তা সারানোর জন্য টেন্ডার ডেকেছে দুই সরকারি সংস্থা! শুধু তাই নয়, দুই টেন্ডারের আনুমানিক অর্থমূল্যের মধ্যেও প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ফারাক। ঘটনাকে ঘিরে দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রশ্ন উঠেছে, গান্ধী মোড় থেকে অ্যালয় স্টিল প্লান্টমুখী সূর্য সেন সরণির দায়িত্ব আসলে কার?
দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা। রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত, ভাঙাচোরা জায়গা এবং খানাখন্দের কারণে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা। রাস্তা সংস্কারের দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন ধরে।
কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এবার সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন। সূর্য সেন সরণির মেরামতির জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)-র তরফে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি অর্থমূল্যের টেন্ডার করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই রাস্তার মেরামতির জন্য দুর্গাপুর পুরসভা প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি অর্থমূল্যের পৃথক টেন্ডার করেছে।
অর্থাৎ, একই রাস্তার জন্য দুই সরকারি সংস্থার টেন্ডারে অর্থমূল্যের ফারাক প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। পুরসভার টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২২ অগস্ট, আর এডিডিএ-র টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ অগস্ট।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ঠিকাদাররাও। একই রাস্তার একই ধরনের মেরামতির জন্য কোন সংস্থার টেন্ডারে অংশ নেবেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, অতীতে একই রাস্তার জন্য একই সময়ে দুই সরকারি সংস্থাকে এ ভাবে টেন্ডার করতে দেখা যায়নি।
ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগও উঠেছে। দুর্গাপুর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র দিলীপ অগস্তী বলেন, পুরসভা ও এডিডিএ-র দপ্তরের মধ্যে দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের। প্রয়োজন হলে দুই সংস্থার আধিকারিকরা বৈঠকও করেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেই তাঁর অভিযোগ।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পুরসভার টেন্ডারের খবরই জানতেন না এডিডিএ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এডিডিএ-র এক আধিকারিক জানান, সূর্য সেন সরণির জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। পুরসভাও যে একই রাস্তার জন্য টেন্ডার করেছে, তা তাঁরা জানতেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম-এর দাবি, রাস্তা মেরামতির জন্য পুরসভাই আগে উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পুরসভার পক্ষ থেকে টেন্ডার করার পাশাপাশি ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। রাস্তার কাজ পুরসভাই করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এডিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি না জেনেই টেন্ডার করেছে।










