অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: একযোগে দুই কর্মসূচি স্কুলে। জাতীয়তাবোধের বিকাশের সঙ্গে স্মরণ করা হল বীর বিপ্লবীর আত্মবলিদানকেও। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পুরসভা ও যুব কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান। ‘প্রতি ঘরে তিরঙ্গা’ ও বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসকে সামনে রেখেই এই এই অনুষ্ঠান বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ডিআই (মাধ্যমিক) সুজিত সরকার, ডিআই(প্রাথমিক) শ্যামলচন্দ্র রায় ও পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক দেবদুলাল পাত্র।

৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশজুড়ে দেশাত্মবোধে জারিত হওয়ার আহ্বান কেন্দ্রের। এই উদ্যোগে সামিল জলপাইগুড়ির সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-সহ অন্যরাও। ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ উপলক্ষে প্রতি ঘরে তিরঙ্গা বা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করে কেন্দ্র। জাতীয় পতাকার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভালোবাসা, ভক্তিকে মিশিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয়তাবোধ, একত্রতার প্রতি এটি একটি অটুট প্রয়াস। এ বছর ‘বন্দেমাতরম’ চেতনার প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে এই কর্মসূচিকে।

দেব দুলাল পাত্র, নির্বাহী আধিকারিক, জলপাইগুড়ি পুরসভা
এদিন স্কুল চত্বরকে বেলুন সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়। তৈরি করা হয় সেলফি জোনও। পড়ুয়াদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন অভিভাবকদের একাংশও। গাওয়া হয় জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’ গানও। কেউ রাণী লক্ষ্মীবাঈ, কেউ মাষ্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনয়-বাদল-দীনেশ, স্বামী বিবেকানন্দ সেজে অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রা দেয়। একক অনুষ্ঠানেও অংশ নেয় পড়ুয়ারা। শহীদ ক্ষুদওরাম বসুর প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জানান সকলে।

প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশিকা মেনে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের জন্ম দিতেই এই উদ্যোগ।
ডিআই(প্রাথমিক) শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কুইজ, অঙ্কন প্রতিযোগিতা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। জাতীয়তাবোধ ও বীর বিপ্লবীদের স্মরণ করে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। জাতীয় পতাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, দেশের গৌরবময় দিকগুলি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।”
পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক দেবদুলাল পাত্র বলেন, “আজ মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান হল। আগামী বুধবার পুরসভায় ৮টি স্কুলকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা হবে। বৃহস্পতিবার বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ৫০টিরও বেশি স্কুলকে নিয়ে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।”









