রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ প্রবীণ প্রতিযোগী হিসেবে নজির গড়লেন আসানসোলের ৮৮ বছরের চিকিৎসক ডা. কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণদের বিভাগে তিনি জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। পেশায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কল্যাণবাবু একসময় ডার্মাটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। আজও তিনি যেমন চেম্বারে রোগী দেখেন, তেমনি নিয়মিত আসানসোল রাইফেল ক্লাবে গিয়ে শুটিং অনুশীলন চালিয়ে যান।
৫৭তম রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছিল ২৪ আগস্ট এবং শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। প্রতিযোগিতার মেন গ্রুপে ২৫ মিটার স্ট্যান্ডার্ড পিস্তল শুটিংয়ে কল্যাণবাবু তৃতীয় স্থান পান। প্রথম হন পশ্চিম বর্ধমানের আরনেস্ট কুমার বক্স এবং দ্বিতীয় উত্তর কলকাতা রাইফেল ক্লাবের সুশান্ত ঘোষ। এই বয়সে তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পুরস্কার জেতায় শুটিং মহলে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে।
কল্যাণবাবু জানান, ৮০-র দশকে মধ্যপ্রদেশে মিলিটারি একাডেমির জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। পরে আমেদাবাদ, দিল্লি-সহ একাধিক শহরে জাতীয় স্তরে নানা পদক জেতেন। দু’বছর আগে রাজ্য শুটিংয়ে সোনার পদকও তাঁর ঝুলিতে উঠেছিল। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় আগামী দিনেও অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। আসানসোল রাইফেল ক্লাবের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন। এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাঁর ছেলে চিকিৎসক রঘুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ও, যদিও তিনি কোনও পদক পাননি।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট প্রায় ৯৫০ জন শুটার অংশ নেন, যার মধ্যে কলকাতা পুলিশও ছিল। উত্তর কলকাতা রাইফেল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে পশ্চিম বর্ধমান রাইফেল ক্লাব এবং তৃতীয় হুগলি রাইফেল ক্লাব। এবারে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন বিভাগে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে পুরস্কৃত হন অভিনব সাউ এবং মহিলাদের মধ্যে একই বিভাগে মেহেলি ঘোষ। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের আইন ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।










