ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেছিলেন, পরিকল্পনাহীন ও বিপজ্জনক ভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। চিঠিতে তিনি এসআইআর অবিলম্বে স্থগিতের অনুরোধ জানান।
কিন্তু সেই চিঠির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চিঠি পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যায় পাঠানো তাঁর চারপাতার চিঠিতে তিনি মমতার অভিযোগকে একে একে খণ্ডন করে জানান, ‘‘এসআইআর ঠিক ভাবে সম্পন্ন হওয়া শুধু স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্যই নয়, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও জরুরি।’’
মমতার অভিযোগ— এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ সইতে না-পেরে সম্প্রতি দুই বিএলও-র মৃত্যু, কৃষকরা আলু তোলার মরসুমে অতিরিক্ত হয়রানি, সাধারণ মানুষের নথিপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি— সব মিলিয়ে এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত।
তার জবাবে শুভেন্দুর পাল্টা দাবি, বিএলওদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির ফাইল এত দিন রাজ্যের অর্থ দফতরই আটকে রেখেছে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভুয়ো ও অবৈধ ভোটার রাখার স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’’
শুধু তাই নয়, মমতার ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবেও তিনি বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন। শুভেন্দু চিঠিতে উল্লেখ করেন, হাই কোর্টের নির্দেশে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ হয়েছে, যা তাঁর বক্তব্যে ‘‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও চুরি করার রাজনীতি’’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী বিএলওদের উদ্দেশে ‘ভোটের পরে রাজ্য সরকারের চাকরি’ দেওয়ার বার্তা দিয়ে কমিশনের প্রতি তাঁদের নিরপেক্ষ দায়িত্বে হস্তক্ষেপ করছেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়ালের বিরুদ্ধে মমতার দুর্নীতির অভিযোগও তিনি চিঠিতে তুলে ধরেন।
এসবের পাশাপাশি শুভেন্দু দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে। কমিশনের ভূমিকা আরও কঠোর হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। লোকসভা ভোটের সময় দীর্ঘক্ষণ সিসিটিভি অকেজো থাকার প্রসঙ্গও তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।










