‘শাহজাহান শেখের মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর ছেলের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বসিরহাট আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথেই ন্যাজোটের কাছে বয়ারমারি পেট্রোল পাম্পের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়েন ভোলা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় তাঁর ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ এবং গাড়ির চালক শাহানুরের। গুরুতর জখম অবস্থায় বেঁচে গিয়েছেন ভোলা।
ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে রাজি নয় বিরোধী দল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “এটা শাহজাহান করিয়েছে। জেলে বসে করিয়েছে।” তাঁর দাবি, শাহজাহান যদি বসিরহাট জেলে থাকে, তবে সাক্ষীদের উপর হামলা বা মৃত্যু এভাবেই ঘটতে থাকবে। তাই এই মামলা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “তৃণমূল নেতারা জেলের ভিতরেই ফোন ব্যবহার করেন। যা ইচ্ছা খান, রাতে দেরি করে খাওয়া-দাওয়া করেন, নানা ছবি দেখেন। মন খারাপ হলে উডবার্ন থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” তাঁর দাবি, জেলের সুপারদের অনেকেই বাইরে এসে তাঁকে জানিয়েছেন—নেতারা জেলে বসেই ফোন ব্যবহার করেন।
তিনি আরও জানান, ভোলানাথ ঘোষের কাছে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করেন, এসএসকেএমে ভোলার চিকিৎসা করানো বিপজ্জনক হতে পারে। ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্ত সরানোর দাবিতে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি।
বুধবার সকালেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আদালতে যাওয়ার সময়ই একটি দশ চাকার ট্রাক সরাসরি ধাক্কা মারে ভোলার গাড়িকে। ধাক্কার জেরে গাড়িটি রাস্তার পাশে জলে নেমে যায়। ভোলানাথ সেদিন শাহজাহানের দায়ের করা একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিছক দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হামলা—তা নিয়ে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।










