Home / খবর / রাজ্য / বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ না পড়লে নির্বাচন বাতিল সম্ভব নয়, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ না পড়লে নির্বাচন বাতিল সম্ভব নয়, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল, যতক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন অথবা তার বাস্তবিক প্রভাব নির্বাচনের ফলের ওপর পড়ছে, ততক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়। তবে আদালত একই সঙ্গে এ-ও স্পষ্ট করেছে যে, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিক নয়, এটি মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগের বিষয়।

এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানির আগে এক আবেদনকারী অভিযোগ করেন যে, ট্রাইব্যুনালে তাঁদের কথা শোনা হচ্ছে না। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, ট্রাইব্যুনালকে এভাবে ‘ব্ল্যাকমেল’ করা যাবে না। তিনি বলেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাকে জানিয়েছেন যে আজ সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরু হয়েছে। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ট্রাইব্যুনালই নেবে। এরপরই বিচারপতি বাগচী কমিশনের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করে বলেন, এখানে কোনও দায় ঠেলাঠেলি চলবে না। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা ভুগছেন।

বিচারপতি বাগচী এদিন বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এই ধরণের বিষয় নেই, যা কেবল বাংলায় দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তযদি ভোটার বাদ পড়ার হার ৫ শতাংশের কম হয়, তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কোনও প্রার্থীকে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না, তেমনই যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অধিকারের বিষয়টিকেও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।দ আদালতের মতে, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের কারণেই সুপ্রিম কোর্টকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে দু’দফায় ভোটের জন্য ইতিমধেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। গত ৬ এবং ৯ এপ্রিল ছিল দুই দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী, ওইদিন রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় ছিল, কেবল তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু যাঁদের নাম বিবেচনাধীন ছিল অথচ শেষ পর্যন্ত বাদ গিয়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি বাগচীর মতে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা বিপুল কাজের চাপ সামলাচ্ছেন, তাই ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই অধিকার সুরক্ষিত করতেই একটি শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু মাঝে নির্বাচন চলে আসায় সেই কাজে সমস্যা হচ্ছে। আপাতত আদালতের নজর এখন ট্রাইব্যুনালের শুনানির দিকেই।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *