পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বড়সড় বদল আনল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’-র নিষ্পত্তির ক্ষমতা আর ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-দের হাতে থাকবে না। আগে তাঁরা শুনানি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন। এখন থেকে সেই দায়িত্ব পালন করবেন কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির নিয়োগ করা বিচারকেরা।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে, রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন-এর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আদালতের ভাষায়, রাজ্যে “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি” তৈরি হয়েছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সেই কারণেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই বিশেষ নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যাতে “সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার” নিশ্চিত করা যায়।
নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মরত জেলা বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের প্রত্যেক জেলায় নিয়োগ করতে হবে। তাঁরা নো-ম্যাপিং তালিকা এবং আনম্যাপড ক্যাটেগরি সংক্রান্ত সব দাবি-আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন। বিচারকদের যে কোনও নির্দেশ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে এবং রাজ্য ও জেলা প্রশাসনকে তা অবিলম্বে মানতে হবে। নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজ়ার্ভার এবং রাজ্যের নিযুক্ত আধিকারিকেরা এই বিচারকদের সহায়তা করবেন।
আদালত আরও জানিয়েছে, এসআইআরের কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শনিবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র আধিকারিক, অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে। আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের রূপরেখা ঠিক করা হবে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে অংশের কাজ শেষ হবে, তা প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে সেটি চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে গণ্য হবে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হলে পরে আবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ কাজে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তা—খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারকেরা এই দায়িত্বে ‘ডিমড ডেপুটেশন’-এ থাকবেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দু’ধরনের ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের যোগ প্রমাণ করতে পারেননি এবং যাঁদের নাম বা তথ্যগত ত্রুটি ছিল। এতদিন ইআরও, সহকারী ইআরও এবং বুথ স্তরের আধিকারিকেরা শুনানি পরিচালনা করতেন। এবার সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সরাসরি বিচারকদের হাতে গেল।










