মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) মামলার শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত ও কলুষিত করতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজন পড়লে তারা এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে কমিশনের আইনজীবী জানান, গত রবিবারের একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন— “উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ জওয়ানেরা এসে আপনাদের মারবে, তাই প্রস্তুত থাকুন।” এই বক্তব্যের রেকর্ডিং ইতিমধ্যেই আদালতে জমা দিয়েছে কমিশন। অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, “যদি রাজ্য প্রশাসন শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত তার পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।”
এর আগে গত ২৫ মার্চ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের বুথ পাহারা দেওয়ার এবং ছাত্র-যুবদের ভোট মেশিন রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই কমিশন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল। এ দিনের শুনানিতে সেই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই কমিশন দাবি করে, একের পর এক এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
পাশাপাশি, এ দিনের শুনানিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। আইনজীবী শ্যাম আদালতকে জানান, প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার মধ্যে ৪৪ লক্ষের তথ্য পাওয়া গেলেও ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ জন আপিল করতে পেরেছেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালগুলি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে আদালত আশ্বাস দিয়েছে যে, ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার বজায় রাখতে আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট শুরু হতে চলেছে।









