Home / খবর / দেশ / রোহিঙ্গা মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পাশে ৪৪ প্রাক্তন বিচারপতি

রোহিঙ্গা মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পাশে ৪৪ প্রাক্তন বিচারপতি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্যকে লক্ষ্য করে চলা সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হলেন দেশের ৪৪ জন প্রাক্তন বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের ওই প্রাক্তন বিচারপতিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার” চালানো হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে।

বিচারপতিরা জানান, আদালতের কার্যক্রম নিয়ে ন্যায্য সমালোচনা স্বাগত হলেও, সাম্প্রতিক আক্রমণগুলি সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের উদ্দেশ্যকে বিকৃত রূপে তুলে ধরা হচ্ছে।

‘সুপ্রিম কোর্টকে হেয় করার অপচেষ্টা’

“সুপ্রিম কোর্টকে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়” শিরোনামে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রাক্তন বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে এই সমালোচনার পেছনে তথ্য বিকৃত করা ও আদালতের ভূমিকাকে ভুল ব্যাখ্যা করার প্রবণতা কাজ করছে।

তারা স্পষ্ট করেন, রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি শুধু একটি মৌলিক আইনগত প্রশ্ন তুলেছিলেন—যে পরিচয় বা মর্যাদার দাবি করা হচ্ছে, তা কারা দিয়েছে? এই ভিত্তিগত প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কোনও বিচারিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে আদালতের অবস্থান

বিবৃতিতে প্রাক্তন বিচারপতিরা জানান, সমালোচকরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেঞ্চের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে—মানুষ ভারতীয় নাগরিক হোক বা বিদেশি হোক, কাউকে নির্যাতন, নিখোঁজ বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে দেওয়া যায় না।

এছাড়াও তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন যে ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন বা ১৯৬৭ সালের প্রোটোকলের অংশ নয়। তাই রোহিঙ্গা অভিবাসীরা কোনও বৈধ শরণার্থী কাঠামোর আওতায় পড়েন না। বিদেশিদের অধিকার ও দায়বদ্ধতা ভারতের সংবিধান, অভিবাসন আইন ও সাধারণ মানবাধিকার নীতির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।

বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের সতর্কবার্তা

প্রাক্তন বিচারপতিরা সতর্ক করে বলেন, সংবিধানসম্মত বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানকে পক্ষপাত বা পূর্বধারণার অভিযোগে পরিণত করা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য হুমকির মত। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব, অভিবাসন বা নথিপত্র নিয়ে আদালত প্রশ্ন তুললেই যদি আক্রমণের মুখে পড়তে হয়, তবে আদালত তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

তাঁদের মতে, বিচারব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অভিযানের বিরুদ্ধে সমাজকে সতর্ক হতে হবে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *