Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / ওজনদার মানুষের লঘু আচরণ এবং আম-আদমির ‘কাট্‌ল ফিশ’ তত্ত্ব

ওজনদার মানুষের লঘু আচরণ এবং আম-আদমির ‘কাট্‌ল ফিশ’ তত্ত্ব

এলিট শ্রেণির বিচ্যুতি এবং তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা আপাত-নিস্পৃহ সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার এক অদ্ভুত মনস্তত্ত্বের বয়ান তুলে ধরলেন অরুণাভ গুপ্ত

যাঁর যা ভূমিকা

ভূমিকাধারীরা কেউ-ই আম-আদমি সাধারণের তালিকায় পড়েন না। এঁদের স্ট্যাটাস অনুযায়ী এক-একেক জনের ভূমিকা থাকে। যেমন রাজনীতিদিব, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক আঙিনার এলিট পিপল ইত্যাদি-ইত্যাাদি প্রমুখ। বলা-বাহুল্য সমাজে এঁদের ভাষণ, মন্তব্য যথেষ্ট তোলপাড় ফেলে। ওজনদার মানুষের ওজনদারি ভূমিকা। চলনে-বলনে-কথনে নিজস্ব স্টাইল থাকলেও হোমওয়ার্ক মাস্ট। সেখানে ওই স্টেজে মেরে দেওয়ার মানসিকতা প্রশ্রয় পেলে গলতি অবশ্যম্ভাবী। ল্যাজে-গোবরে অবস্থা যাকে বলে। নিজে ডোবা সঙ্গে আরও। বেফাঁস বক্তব্য তবু এটা-সেটা যুক্তি খাড়া করে পাস কাটানো গেলেও, তথ্য এবং জাতীয় গান কেন্দ্র করে সুরবিভ্রাট, তাও আবার সংসদের সেন্ট্রাল হলে…প্যাথেটিক।

খবর না পড়ে মিস করবার পাবলিক মনে হয় নাা কেউ আছেন। তবুও পুনরাবৃত্তির কারণ বারবার বললে যদি সমঝে চলার দায়বদ্ধতা আসে। কমনওয়েলথ গোষ্ঠীভুক্ত স্পিকার সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা ছিল জাতীয় গান বন্দে মাতরম বাজিয়ে। সেই অনুযায়ী বন্দে মাতরম সুর বেজে উঠতেই ছন্দপতন। রবীন্দ্রনাথ সুরকৃত বন্দে মাতরম নয়। ১৯৫২ সালে আনন্দমঠ ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ওই গানটার যে সুর করেছিলেন, সেই সুর এই বিশেষ দিনে বাজানো হচ্ছে। উপস্থিতজনদের মুখ চাওয়া-চায়িতে হুঁস ফিরলেও ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। আবারও রিপিট করি- প্যাথেটিক।

যায়-আসে না

সাধারণজনতা এতশত মাথায় রাখে না। ভিড়ে থাকে, শোনার কথা শোনে, আবার ভুলতে বেশিক্ষণ লাগে না। এটাই সাধারণের সাদামাটা সর্বজনীন চেনা বৈশিষ্ট্য। তবু খটকা লাগে অসংখ্য সাধারণ কি এতটাই ঠুনকো। কোথাও কি দাগ কাটে না, এতটাই নিরেট-নিস্পৃহ। সন্দেহ বলছে- নকল লুক নয় তো। যেন গোলকধাঁধায় ঘুরছি গোলকধাঁধা দেখাব। সব স্পেকুলেশন ফেলিওর, নানান লুক, ভেক ভার্সের ভেক, নিট রেসাল্ট মিস কমিউনিকেশন। থট রিডিং ঠিক আছে। হিয়ার মি সাধারণতস্য সাধারণ স্কোয়াড, অনেক নাচলে এ বার ঝেড়ে কাশো দেখি।

বেশ বেশ ওপেন করতে হবে না, অনুরোধ একটাই জবাব থাকুক হেঁয়ালি-তে মাখোমাখো। কান পেতে শুনছি গনগনে সারাংশ- জীবন সহজ মোলায়েম নয়। তা হলে? সহজ-সরল করে নেওয়া শিখতে হয়। কেমন ভাবে? কিছুটা আক্ষেপ, কিছুটা সহ্য, আর অনেক কিছু বুঝেও না বোঝার ভান করা। অর্থাৎ গোদা বাংলায় ঘাপটি মেরে থাকা। অনেকটা ওই কাট্‌ল ফিশ জাত। এদের আচরণ কেমনতর বাপু। নিজেদের শরীরের মধ্যেই ওরা একরকম কালি উৎপাদন করে, আর গতিক সুবিধার নয় বুঝলে তা উলটি করে আশপাশ নিশ্ছিদ্র অন্ধকার তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। কোথায় আঁচ করবে-দেবো ন জানন্তি। এ বার আমি একটা উগরে দিই- …আমি তবু বলি: এখন যে-কটা দিন বেঁচে আছি, সূর্যে-সূর্যে চলি,…। (জীবনানন্দ দাশ)

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *