Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / শিবের বৈরাগ্য ভাঙা ও পার্বতীর কাহিনিতে মিশে গেছে ভারতীয় স্থাপত্য-শৈলী

শিবের বৈরাগ্য ভাঙা ও পার্বতীর কাহিনিতে মিশে গেছে ভারতীয় স্থাপত্য-শৈলী

মুকুট তপাদার

পুরনো কথা লিখতে বসে আকৃতি প্রকৃতির চিত্র এক এক করে স্পষ্ট ভেসে ওঠে। উৎকীর্ণ সব স্থাপত্য ও ললিতকলার সামনে দাড়িয়ে প্রত্নবিলাসী মনে কত তুচ্ছ মনে হয় নিজেদের। পরমেশ্বর, যিনি মানব সৃষ্টিকর্তা। তিনি অমৃত পানকারী। তাঁর পাথরের বাস-গৃহ স্থাপত্য শিল্প ও নানা শিল্পকলায় সমৃদ্ধ। যা আজকের এই সময়ে প্রাচীন ঐতিহাসিক দলিল।

প্রাচীন থেকে আদি মধ্যযুগ ধরে দেবমন্দিরে শিল্পের অলঙ্কার পূর্ব, মধ্য, দক্ষিণ ভারতে প্রকাশ হয়েছে নির্দিষ্ট রূপে। শিল্পকলায় উঠে এসেছে বিভিন্ন স্থানীয় বৈশিষ্ট, পুরাণের কাহিনী ও লোককথা। ভারতের পূর্ব উপকূল জুড়ে ইতিহাসের বহু নিদর্শন ছড়ানো আছে। দশম শতাব্দীর সোমবংশী রাজবংশের সময়কার এক জলাশয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিব-পার্বতীর মহিমা।

মাঘে মহাশিবরাত্রি ব্রত পালন হয়। সব ব্রতের মহাব্রত। শিব সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ে। গোটা ব্রহ্মাণ্ডে তিনি বিরাজমান। পুরাণ মতে, শিবরাত্রিতে শিব-পার্বতীর বিবাহ হয়েছিল। বিভিন্ন ধারায় মতবাদ ছড়িয়ে আছে, আর সেখানে প্রচার হয় নানা রকমের মহিমা। দেবী পার্বতী ও শিবকে নিয়েও মহাশিবরাত্রিতে অনেক মতবাদ আছে।

কথিত, মহাশিবরাত্রিতে দেবী পার্বতী দেখেন সহস্রলিঙ্গ চারিদিকে। অর্থাৎ শিব সর্বত্র। তিনি অনুভব করেন শিবের উপস্থিতি সর্বদা। লোকবিশ্বাসে যা প্রচলিত হয়েছে। আসা যাক এবারে দেবী পার্বতীর এক কাহিনীতে। কথিত যে, শিব-পার্বতী বিবাহের পর একটি ঘটনা ঘটেছিল। বৈরাগী শিব আত্মগোপন করেন। পার্বতী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে পিপাসার্ত হয়ে পড়েছিলেন। শিবকে অবশেষে খুঁজে পাওয়া যায়। সব শুনে পার্বতীর তৃষ্ণা নিবারণের জন্য শিব বিন্দু সরোবর নির্মাণ করে দেন। পুরনো ভুবনেশ্বরের কেন্দ্রস্থলে যা বৃহৎ এক জলাশয়। এখানেই আছে অন্যতম দর্শনীয় ‘দেবী পদহার’। পুরাণ অনুসারে পার্বতীর পায়ের ছাপ এখানে রয়েছে। তাই স্থানীয় ভাষায় নামটি পদহার।

কীর্তি ও বাস নামক দুই অসুরকে দেবী এখানে হত্যা করেন। ফলে একটি জলাধার সৃষ্ট হয়। এই জলাধারের চারদিকে ১০৮টি ছোট আকারের শিব মন্দির কক্ষ রয়েছে। পাথরের শিবের মন্দিরগুলো নবম শতাব্দীতে সোমবংশীয় রাজারা পীড়া দেউল প্রকারে নির্মাণ করে দেন, যা ইতিহাস স্বীকৃত উপাদান। তাদের আমলে জলাশয়টি বাঁধাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থাপত্য নিদর্শনে অনন্য কীর্তি। জলাধারের ওপারে আকাশ ধুয়ে যাচ্ছে সূর্যাস্তে। আর স্মিতমুখে এক গাছ ভগ্ন মন্দির ঘিরে উঠে তাকিয়ে আছে সেই পরিসরের দিকে। আর ধারণ করে আছে এমনই কত বিস্ময়।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *