যে মধ্যবিত্তের সংসারে ‘ডাইনে আনতে বাঁয়ে কুলায় না’, তাঁদের কাছে এই বাজেট কি সত্যিই কোনো স্বস্তি বয়ে আনে, নাকি তা শুধুই ওপরতলার এক ‘নিয়মরক্ষা’র অনুষ্ঠান মাত্র? লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত
উড়ে যায় উড়ে যায়…
মাথায় উপর দিয়ে। সেটা কী বস্তু। আবার কি কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট। এলাহি কর্মযজ্ঞ, কত বিনিদ্র রজনী সঙ্গী করে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এই হারকিউলিয়ান জব সম্পন্ন করেছেন। সব অর্থমন্ত্রীকে এহেন হ্যাপা পোয়াতে হয়। তবে নয়-নয় করে টানা ন’বার কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপনকারী প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হলেন নির্মলা সীতারমন। শ্রদ্ধেয় ম্যাডাম নতমস্তকে আপনাকে কুর্নিশ জানাই এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করার জন্য। কিন্তু সত্যি বলতে বাজেট আগাগোড়া রসকসবিহীন বিষয়। সব শ্রেণির উপর প্রভাব পড়লেও বেশি আশঙ্কার মধ্যে থাকে মধ্যবিত্ত সমাজ। প্রতিদিন তাদের কাটছাঁটের বাজেট নিয়ে চলতে হয় বলে।
কেন্দ্রীয় বাজেট আসে, লাগু শুরু হয়। শুরু হয়ে যায় বোদ্ধাদের সার্জারি- কোনটা তাৎক্ষণিক আর কোনগুলি সুদূরপ্রসারী ইত্যাদির ব্যাখ্যা। এ যেন শরীর ও মন তাজা রাখার কিছু আসন প্রক্রিয়া বাতলানো। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদী ফলই গুনতিতে বেশি। নানান করিডরের নানান খেলা, চলতি প্রজন্মে না মিললেও আগামী প্রজন্ম দুধে-ভাতে থাকবে। আহা বুঝতে হবে তো বাজেট হল একটি বাঁধা সময়ের জন্য একটি আর্থিক পরিকল্পনা। বায়না করলে হবে যত্তসব ছেলেমানুষি। মাননীয়া অর্থমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, এই কেন্দ্রীয় বাজেট একটি মহাকাব্য যা একটি উন্নত ভারতের (বিকশিত ভারত) স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। মোক্ষম, এর পরেও ডাইনে আনতে বাঁয়ে কুলায় না আমজনতার দাও-দাও সানাইয়ের পোঁ- ডিসগাস্টিং।
নিয়মরক্ষা
গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে চড়িয়ে আমার কথা শেষ কথা চলনে-বলনে বুঝিয়ে দেওয়া। যে বা যারা তখতে বসে তখন তারা রাজা, ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। যাহা বাহান্ন তাহা তিপ্পান্ন। ভয়ে বা নির্ভয়ে বলি, তা হলে আর ঢাক-ঢোল পেটানো বাজেট বক্তৃতা কোন কামে লাগবে সাধারণস্য সাধারণের। শাসক যা ভাববে, সে ভাবে চললেই হল। সাধারণের নেই-নেই চিল্লানোর স্বভাবে কি আসে-যায়।
এই দেখুন না হাজার টাকা পেনশনের মানুষগুলো চাইতে-চাইতে অক্সিজেন টান ধরলেও ধুঁকতে ধুঁকতে বাঁচছে। কত যুগ পার, মনে আছে কার। ব্যাঙ্কের ক্য়াশিয়ার ভুলেও শুধোন না কি দেব। লাইনে দাঁড়ানো অন্যদের জি়জ্ঞেস করেন কি দেব। তাঁদের চেক অ্যামাউন্ট হাজার তো নয়। তফাত এখানেই। হাজার টাকা দয়া-দাক্ষিণ্যের পেনশনভোগী আমরা তাই কিউ-এর শেষ প্রান্তে দাঁড়াই। নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্মগত আত্মসম্মান বোধ যা প্রতিমুহূর্তে ঠুনকো তবুও। এ নয় যে কেউ দেগে দেবেন অশিক্ষিত বলে আর আমরা মেনে নেব। সার্টিফিকেটগুলো এখনও প্রমাণস্বরূপ ট্রাঙ্কে আছে- আর বকে লাভ নেই। তবে হ্যাঁ একটা সম্বল আছে, যা কিছুই ছেড়ে দাও না কেন, হাসি আর আশা কখনও ছাড়বে না। কারণ এ দুটো জিনিসই তোমাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে।










