দুর্গাপুর: পরিকাঠামোর চরম অভাব, ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতি এবং নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে সোমবার থেকে দু’দিনের কর্মবিরতিতে সামিল হলেন দুর্গাপুর মহকুমা মডেল আদালতের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই কর্মবিরতি। দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ঘিরে আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ, আধুনিক মডেল আদালত হলেও বাস্তবে সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরেই আইনজীবীরা নানান সমস্যার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আদালতে পানীয় জল, শৌচাগার, বসার জায়গা সহ একাধিক ন্যূনতম পরিষেবার অভাব রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এর ফলে সাধারণ মানুষকেও সঠিক পরিষেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আন্দোলনরত আইনজীবীদের পাশে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, আদালত নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২৮ কোটি টাকার প্রকল্পের খরচ বেড়ে ৩৮ কোটিতে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত এই টাকা কোথায় গেল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
বিধায়কের আরও অভিযোগ, আদালতের চেয়ার, এসি এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাকাটাতেও দুর্নীতি হয়েছে। তিনি সরাসরি প্রাক্তন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান কবি দত্তের নাম উল্লেখ করে বলেন, “যদি কেউ এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবেই। কেউ পাতালে লুকিয়েও রেহাই পাবেন না। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।”
তিনি আরও জানান, আইনজীবীদের দাবিদাওয়া রাজ্য সরকারের নজরে আনা হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হবে।
অন্যদিকে দুর্গাপুর মহকুমা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল ঘোষ বলেন, “আইনজীবীদের কাজ করার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দাবিপূরণের আশ্বাস না মিললে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হব।”
আইনজীবীদের এই কর্মবিরতির ফলে সোমবার আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ে। বহু মামলার শুনানি পিছিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে এখন চাপ বাড়ছে প্রশাসনের উপর।









