অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: অবশেষে স্বস্তি। নির্বাচন কমিশনের তরফে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ মেলার পরেই মনোনয়নপত্র জমা দিলেন এশিয়াডে সোনাজয়ী ক্রীড়াবিদ তথা রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ। সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ মনোনয়ন পত্র জমা করলেন তিনি। নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন স্বপ্না। স্বপ্নার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ওই আসনে বিরোধীরা যথেষ্ট চাপে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।দিনকয়েক ধরেই স্বপ্নার মনোনয়ন ঘিরে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী হওয়ার জন্য রেলের চাকরি ছাড়লেও রেলের তরফে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাহার না হওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। আবেদন জানিয়েও রেলের তরফে কোনও সদর্থক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। এরপরে জল গড়ায় আদালতে। নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হন তিনি। রবিবার রাতে Election Commission of India-এর পক্ষ থেকে জারি করা শংসাপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, Representation of the People Act, 1951-এর ধারা ৯ অনুযায়ী স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে কোনো অযোগ্যতার কারণ নেই। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাঁর লড়াই করার পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায় স্বপ্নার। এদিন বাড়ির মন্দিরের পাশাপাশি উত্তরের ঐতিহ্যবাহী ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে পুজো দেন তিনি। রাজগঞ্জ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০০৯ এর উপ নির্বাচনেই এই কেন্দ্রে ঘাস ফুল ফুটিয়ে দিয়ে ছিলেন তৃনমূল প্রার্থী খগেশ্বর রায়। গত বিধানসভা নির্বাচনেও ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন খগেশ্বর। এবারে খগেশ্বরের বদলে প্রার্থী হন স্বপ্না। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে প্রাথমিক পর্বে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দেয় একাংশ দলীয় কর্মী সমর্থকদের মনে। তবে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার পরে সবাই স্বপ্নাকে জেতাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বলে দাবি। রাজগঞ্জ স্বপ্নারও নিজের এলাকা। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে তার ঘরের সম্পর্ক। তাই ঘরের মাঠে এই লড়াইয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশাবাদী স্বপ্না। ভোটে জিতে এসে নিজের এলাকার খেলাধুলার উন্নতিতে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানালেন স্বপ্না বর্মন। এদিন দলের নির্বাচনী কো-অর্ডিনেটর তথা সদর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কৃষ্ণ দাস, জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ, লক্ষ্যমোহন রায়-সহ তৃণমূল নেতাদের নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পৌঁছন স্বপ্না। মনোনয়ন শেষে তিনি বলেন, “যেখানেই প্রচারে যাচ্ছি, সবাই আমাকে ঘরের মেয়েই মনে করছেন। সবার ভালোবাসা পাচ্ছি। আমি আপ্লুত। জিতলে অন্য সব ক্ষেত্রের পাশাপাশি আমার কেন্দ্রে খেলাধুলোর মানোন্নয়নে পদক্ষেপ করবো।” স্বপ্নার জয় নিয়ে আশায় ঘাসফুল শিবির।
ছবি: বুবাই শীল










