অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন শহরবাসী। কদমতলা লাগোয়া মাদ্রাসা ময়দানে আম্রুত প্রকল্পের অন্তর্গত বাড়ি-বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের সূচনা করল পুর কর্তৃপক্ষ। শহর ও লাগোয়া এলাকায় বসানো হয় ২১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন। এদিন মাদ্রাসা ময়দানের জায়ান্ট স্ক্রিনে বাড়ির কলে আম্রুত প্রকল্পের জল পড়ার ছবি ফুটে উঠতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন সবাই। ৫ মার্চ থেকে চালু করা হবে ওয়াটার হেল্প লাইন নম্বরও।

এ দিন ওই ময়দানে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাজির ছিলেন ডিআইজি উত্তরবঙ্গ রেঞ্জ সন্তোষ নিম্বলকর, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায়বর্মণ, এসডিও সদর তমোজিৎ চক্রবর্তী-সহ অন্য বিশিষ্ট জনেরা। ২০১৫-১৬ সালে শহরে আম্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সে সময় পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন মোহন বসু। করোনাকালে দু বছর এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। পরে কাজ শুরু হলে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সে সময় সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় চলতি বছরের ৩১ মার্চ। পাপিয়া পাল পুরপ্রধান থাকাকালীন সময়ে কাজ কিছুটা এগোলেও সৈকত চট্টোপাধ্যায় পুরপ্রধান হওয়ার পরে কাজে আরও গতি আসে বলে দাবি।
এ দিন নির্ধারিত সময়সীমার এক মাস আগেই জল সরবরাহ শুরু হল। এদিন পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায়, উপ পুরপ্রধান সন্দীপ মাহাতো-সহ অন্যরা নীল-সাদা বেলুন উড়িয়ে ও মঞ্চে লাগানো জলের কল চালিয়ে সরবরাহের শুভারম্ভ করেন। দিনকয়েক ট্রায়াল রানও হয়ে গিয়েছে একাধিক এলাকায়। প্রাথমিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে জলের গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরে, ১০ মার্চ থেকে ওই জল পান করতে পারবেন শহরবাসীরা। এই জলপ্রকল্পে বসানো ইনভার্টেড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দেশের আর কোথাও নেই বলে দাবি করেছেন এমইডি-র ইঞ্জিনিয়ার ইন-চিফ চিত্তরঞ্জন বর্মণ। ২০৪৭ সাল পর্যন্ত শহরের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসডিও তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “এই জল পানের জন্য জনগণ ব্যবহার করুক এটাই অনুরোধ জানাই।” শহর লাগোয়া তিস্তাচরের বালাপাড়ায় বসানো হয়েছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এখানে শোধন হওয়া জল শহরের আটটি বৃহদাকার রিজার্ভারে জমা হয়ে পরবর্তীতে ১৯ হাজার হোল্ডিংয়ে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। উপ পুরপ্রধান সন্দীপ মাহাতো বলেন, “অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে অবশেষে এই দিন এল।”

সৈকত চট্টোপাধ্যায়, পুর প্রধান
পুর প্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ঐতিহাসিক এই ময়দানে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এসেছিলেন। উদ্বোধনের জন্য আমরা তাই এই ময়দানকেই বেছে নিয়েছি। এই প্রকল্পে তিস্তার ‘সারফেস ওয়াটার’ পরিশুদ্ধ করে মাথাপিছু ১৩৫ লিটার করে জল দেওয়া হবে সবাইকে। বহুতলের ছাদের ট্যাঙ্কেও যাতে জল সরবরাহ করা যায় তার ব্যবস্থা চলছে। অন্য রাজ্যে গরমের সময়ে জলের জন্য হাহাকার পড়ে। আমরাই আগাম ব্যবস্থা নিলাম।”
কেন্দ্র কিছু টাকা দিলেও, সিংহভাগ অর্থ রাজ্য সরকার দিয়েছে। পুরসভাও খরচ করেছে বলে দাবি পুর প্রধানের। শহরের রাস্তা কেটে অপরিকল্পিত ভাবে পাইপলাইন বসানোয় বিপাকে পড়ছেন শহরবাসী। বিরোধীদের একাংশের এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় পুরপ্রধান জানান, কাজ করলে সমালোচনা হবেই। রাস্তা সংস্কারে পুরসভা আলাদা অর্থ বরাদ্দ করে কাজ শুরু করেছে।









