ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা। সেখানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের যেকোনো ভাবে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, তারই প্রেক্ষাপটে এই নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সর্বশেষ পরামর্শে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের নির্দেশিকার ধারাবাহিকতায় এবং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক—যেমন ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের—উপলব্ধ সব ধরনের পরিবহন, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দূতাবাস জানুয়ারি মাসে জারি করা আগের সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাতে সব ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সতর্ক থাকার, বিক্ষোভ বা মিছিল হচ্ছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলার, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র সবসময় হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। উন্নত ফ্রিগেট, যুদ্ধবিমান এবং সমন্বয় ইউনিটসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করেছেন যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সীমিত হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক এই সামরিক প্রস্তুতিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তারা জোর দিয়ে বলেছে, চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না এবং কূটনৈতিক সমাধানই প্রধান পথ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তিনি বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের আশা করছেন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের একটি ভালো সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।
ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবিত কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। আরাঘচি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সেই প্রস্তাব প্রস্তুত হবে। তবে আলোচনা অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই নতুন আলোচনার ঘোষণার মধ্যেই ইরানে আবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনের সময় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। রাজধানীর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মাশহাদ শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারপন্থী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
গত জানুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত আগের দফার বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রশাসনের অধীনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন নিহত হন এবং বহু মানুষকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।










