রবিবার টানা নবমবারের মতো ইউনিয়ন বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়লেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট ২০২৬-এ সরাসরি কর সংক্রান্ত ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, আয়কর হার ও স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। ফলে করদাতারা স্থিতাবস্থা পেলেও তাৎক্ষণিক কোনও করছাড় মিলছে না।
তবে ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফিউচারের উপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অপশনের উপর STT ০.০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাজেট ২০২৬-এ প্রত্যক্ষ করের মূল ঘোষণা
সংশোধিত আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ডিসেম্বর ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত সুদের উপর ব্যক্তিগত করদাতাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আয়কর ছাড় দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই সুদের উপর TDS কাটার নিয়মও তুলে নেওয়া হচ্ছে।
বিদেশ ভ্রমণকে কিছুটা সস্তা করতে ওভারসিজ ট্যুর প্যাকেজের উপর TCS হার ৫ শতাংশ ও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কোনও ন্যূনতম সীমা ছাড়াই।
লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর আওতায় শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে TCS হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হবে।
ছোট করদাতাদের জন্য চালু হচ্ছে নতুন স্বয়ংক্রিয় ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কম বা শূন্য TDS সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে—এর জন্য আর অ্যাসেসিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে না।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধায়, একাধিক সংস্থার শেয়ার বা সিকিউরিটিজ থাকলেও ডিপোজিটরিগুলি সরাসরি Form 15G ও Form 15H গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পাঠাতে পারবে। এতে কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-এ আয়কর স্ল্যাব অপরিবর্তিত থাকলেও, কর পরিপালন সহজ করা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে করছাড় এবং ফাটকা লেনদেনে বাড়তি করের দিকেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।










