নন্দীগ্রাম: এবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গলাতেই শোনা গেল ‘খেলা হবে’ স্লোগান। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুক্রবার শুভেন্দু ঘোষণা করেন, “একুশে খেলা হয়েছিল নন্দীগ্রামে। আবার হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। শুভেন্দুর মুখে ‘খেলা হবে’ স্লোগান শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল রাজ্যের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের প্রার্থী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম প্রার্থী করেছিল মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন শুভেন্দু। সেই ফলাফলের কথাই এদিন নন্দীগ্রামে সরস্বতী পুজোর এক অনুষ্ঠানে এসে স্মরণ করান বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, “খেলা হবে। একুশের মতো খেলা হবে। খেলো তোমরা, দেখতে থাকবে। দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতো ফুলবি।”
এই মন্তব্যের পরেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি—কোনও দলই এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুভেন্দুর বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তিনি ফের নন্দীগ্রাম থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন?
এদিকে শুভেন্দুর মুখে ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে হাতিয়ার করে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য শেখ সুফিয়ান বলেন, “নন্দীগ্রাম-সহ সারা বাংলা যেভাবে দিদির উন্নয়নকে মেনে নিয়েছে এবং সেবাশ্রমে যেভাবে হাজার হাজার মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন, তাতে শুভেন্দু অধিকারী হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই দিদির স্লোগান ধার করতে হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যায়, শুভেন্দু অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০ হাজার ভোটে জিতবে।”










