Home / খবর / জেলায় জেলায় / জলপাইগুড়িতে হাইকোর্ট সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন, ছয় দশকের আন্দোলনের সার্থক পরিণতি

জলপাইগুড়িতে হাইকোর্ট সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন, ছয় দশকের আন্দোলনের সার্থক পরিণতি

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: শনিবার শহরের পাহাড়পুরে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন হল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী ও অন্য বিচারপতিরা অংশ নিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। বর্তমানে শহরের স্টেশন রোডে অস্থায়ীভাবে সার্কিট বেঞ্চের কাজকর্ম চলছে। পাহাড়পুর এলাকায় কমবেশি ৪০ একর জমির ওপরে নির্মিত হয় সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী পরিকাঠামো। এ দিন স্থায়ী পরিকাঠামো ও ভবনের উদ্বোধন হওয়ায় বেজায় খুশি শহরবাসী।

১৯৬৩ সালে এক সম্মেলনে এই শহরে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের প্রস্তাব দেন তদানীন্তন জনাকয়েক বরিষ্ঠ আইনজীবি। সে প্রস্তাব কাগজে কলমেই রয়ে যায়। ৭০ এর দশকে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের জন্য আন্দোলন দানা বাঁধে। ৯০ এর দশকে আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে।

শহরের প্রবীণ আইনজীবী কমলকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সে সময় কেন্দ্র ও রাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি আমরা পথে নেমে আন্দোলন জারি রাখি। বাম আমলের মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন, এই বেঞ্চ শিলিগুড়িতে হোক। তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তাঁকে জায়গাও দেখতে বলেছিলেন। আমরা সে সময় জনগণকে নিয়ে সার্কিট বেঞ্চ দাবি আদায়ে সমন্বয় মঞ্চ। আন্দোলনে অনেকে গ্রেপ্তারও হন। নবাববাড়িতে থাকা জেলা আদালতের সামনে মঞ্চের সদস্যরা অবস্থান সত্যাগ্রহ করেন। বিচারকেরা আদালতে ঢোকার মুখে তাদের ফিরে যাওয়ার সনির্বদ্ধ অনুরোধ করতে থাকেন মঞ্চের সদস্যরা। তদানীন্তন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধেও নোটিশ জারি হয়েছিল। সে সব মামলার নিষ্পত্তি হয় সুপ্রিম কোর্টে। অভিযুক্তরা মুক্তি পান। শেষে তৃণমূল সরকারের আমলে আমাদের দাবি পূরণ হল। পাহাড়পুর এলাকায় ৪০ একর জমির ওপর ৫০১ কোটি টাকা ব্যয় করে তৈরি হয় বেঞ্চ। উত্তরবঙ্গের মানুষেরা যাতে এখানেই বিচার পায় সেজন্য বিভাগীয় শহর জলপাইগুড়িতেই হোক সার্কিট বেঞ্চ। এই দাবি আমরা প্রথম থেকেই জানিয়ে এসেছিলাম। এবারে তা সার্থক রূপ নিল।

এ দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে পাহাড়পুর, গোশালা মোড়-সহ বিভিন্ন জায়গায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে ঢুকতে না পারলেও শহরবাসীর বড় অংশই এদিন ভিড় করেন বিভিন্ন মোড়ে। পুরসভার তরফে এদিন শহরের ১২টি জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “একমাত্র সরকারি সংস্থা হিসেবে আমরা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের অনুমতি পেয়েছিলাম। হাইকোর্ট চত্বর ও শহরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উপরেও আমরা কড়া নজর দিয়েছি। ৫০১ কোটি টাকা খরচ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।”

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *